একটা দুর্বল নাটকের জন্য একজন শিল্পী ডুবতে পারে: সালমান মুক্তাদির

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রথম ইউটিউবার হিসেবে যেই নামটি সবার আগে আসে তিনি সালমান মুক্তাদির। এর বাইরেও তিনি একজন মডেল, গায়ক ও অভিনেতা। ইউটিউবার হিসেবে শুরুর দিকে নিজস্ব চ্যানেলে নানান অসংগতি নিয়ে ভিডিও নির্মাণ করে তুমুল আলোচনায় চলে আসেন তিনি। মডেলিং ও অভিনয়ে নিজস্ব স্বকীয়তায় অর্জন করে নিয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। অনেকদিন ধরেই অভিনয়ে দেখা মিলছে না তার। নাটকে দেখা না মিললেও আসছে ঈদে নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন জনপ্রিয় এই তারকা।

রবিবার বিনোদন বিভাগে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। ইউটিউব, অভিনয়, গান ও সমসাময়িক নানান বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো-

আলোকিত সকাল: বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে? অনেকদিন ধরেই আপনাকে অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ কি?

সালমান মুক্তাদির: এখন আমি আমার কোম্পানি (গোজবাম্পস) নিয়ে বেশ ব্যস্ত। আর হ্যাঁ, অনেকদিন কাজ করা হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই আবার অভিনয়ে ফিরব। শারীরিক ফিটনেসটা এখনও ঠিক হয়ে উঠেনি। গত ৪ মাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সময় পাচ্ছি না তেমন। ওজন বাড়াতে হবে। একটু ফিট হয়ে তারপর দ্রুতই আগের মত কাজে ফিরব।

আলোকিত সকাল: ইউটিউবার, মডেল, গায়ক, অভিনেতার বাইরেও তো আপনার একটি পরিচয় আছে, আপনি একজন নির্মাতা। নাটক, টেলিফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনও নির্মাণ করেছেন বছর দুয়েক আগে। এরপর আর আপনাকে নির্মাণেও দেখা যায়নি। নির্মাণে নিয়মিত হবেন কিনা?

সালমান মুক্তাদির: নিয়মিত হবো কিনা জানি না তবে নির্মাণ করবো। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়াতে ‘ইটস কমপ্লিকেটেড’ নামে একটি নাটক করেছিলাম এরপর ২০১৭ সালে ‘প্রেম মোহাব্বত ভালোবাসা’ নামে একটি টেলিফিল্ম নির্মাণ করেছি। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আরও একটি নাটক নির্মাণ করেছিলাম ‘একটুখানি ম্যাডনেস’। যেই বাজেটে সবার অভিযোগ সেই বাজেটের চেয়ে অনেক কম খরচে এই নাটকটা করেছি। দেখলেই মনে হয় খুব বাজে একটা কাজ কিন্তু সেটাই দর্শকরা পছন্দ করেছে গল্পের জন্যে। এরপর আর করা হয়ে উঠেনি। আর বিজ্ঞাপন তো ১৫/২০ টার মতো নির্মাণ করেছি। তবে গল্প লিখা আছে। কোরবানী ঈদের জন্য নাটক নির্মাণ করবো। গ্রীষ্মে আমার কাজ করতে ভালো লাগে না।

আলোকিত সকাল: নতুন একটি মিক্সড অ্যালবামে আপনার গান আসছে। এটা নিয়ে একটু জানতে চাই…

সালমান মুক্তাদির: হ্যাঁ, ‘দ্য ইন্ডাস্ট্রি ভলিউম টু’ অ্যালবামে একটি গান আসছে। গানের শিরোনাম ‘অন্য কেউ’। আমি যখন নবম শ্রেণীতে পড়তাম তখন গানটা লিখেছিলাম। এরপর দশম শ্রেনীতে উঠে আমার বন্ধুদেরকে গানটি শোনাই। সে সময় বন্ধুরা অনেক জোর করছিল গানটির রেকর্ডিং করার জন্য। আত্মবিশ্বাস না থাকায় তখন আর সেটি করা হয়নি। ভেবেছিলাম জীবনে কখনও কাউকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসলে গানটা তাকেই ডেডিকেট করবো। কিন্তু পাইনি। এত বছর পর বন্ধুদের পরামর্শ আর প্রযোজকের অনুরোধে আমরা গানটি রেকর্ডিং করি। গানটিতে তামিম, সৌমিক, সৌভিক ও আমি একসাথে কন্ঠ দিয়েছি।

আলোকিত সকাল: তাহলে তো মনে একটা অতৃপ্তি থেকে গেলো…

সালমান মুক্তাদির: অতৃপ্তি না ঠিক। তবে এই গানটি এখন যদি কাউকে ডেডিকেট করি তাহলে আমি জেসিয়াকেই করবো। কারণ আমি জেসিয়ার জন্য যা করেছি তা আগে কখনও কারও জন্য করিনি।

আলোকিত সকাল: চারিদিকে আপনাকে নিয়ে যে নানান রকমের সমালোচনা হয়। সেই বিষয়গুলো কিভাবে নেন আপনি?

সালমান মুক্তাদির: আমার চামড়া পুরু, এসব গায়ে লাগাই না। আর প্রতিদিনই আমি ৩/৪ টা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকি। এসব গায়ে মাখার জন্য সময়ও থাকতে হয় আর আমার সেই সময়টুকুও নেই। আর আমি এটা ভাল করেই জানি আমার জীবন আট-দশ লাখ ছেলে মেয়ের মত নয়। মানুষ আমাকে ভুল বুঝতেছে কিনা এটা ভেবে আমি কখনওই সময় নষ্ট করি না। অথচ দিনশেষে সামনাসামনি এসে কেউই মুখ খুলতে পারে না। এটাই প্রমাণ করে যে, মানুষ কতটা কাপুরুষ এবং হিপোক্রেট।

আলোকিত সকাল: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

সালমান মুক্তাদির: বিজনেস ম্যান অর পলিটিশিয়ান। হয়তো একজন ব্যবসায়ী নয়তো রাজনীতিবিদ হওয়া।

আলোকিত সকাল: হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসতে চাচ্ছেন কেন?

সালমান মুক্তাদির: অনেক বয়স্ক শক্তিশালী মানুষেরা গত ৪৬ বছরে যেটা করতে পারে নি সেটা আমি করে দেখাতে চাই। আমার খ্যাতি ও অবস্থান ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ম নিয়ন্ত্রণ করবো।

আলোকিত সকাল: টেলিভিশনের দর্শক এখন অনেক কমে যাচ্ছে। অনলাইনে নানান প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখন নাটক, সিনেমা থেকে শুরু করে সবকিছু খুব সহজেই ইউটিউবে দেখা যাচ্ছে। এতে করে নাটকের জনপ্রিয়তা এখন টিভিতে নাকি ইউটিউবে বেড়েছে বলে আপনার কাছে মনে হয়?

সালমান মুক্তাদির: নাটকের জনপ্রিয়তা এখন আর আগের মত নেই। ইউটিউবে এখন কয়েকটা নাটক কয়েক মিলিয়ন ভিউ হয় বুস্টিং করে, সেটাও আবার মেইনটেইন করে। কারণ একই প্রেম ভালোবাসার গল্প যদি ২০ জন নির্মাতা ২০টি চ্যানেলের জন্য নির্মাণ করে তাহলে দর্শক তো বিরক্ত হবেই। আপনারা ইন্ডাস্ট্রির মানুষজন ছাড়া বাইরের সাধারণ মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন কয়জন এখন ঈদের নাটক দেখার অপেক্ষা করে। সেখানেই উত্তরটা পেয়ে যাবেন।

আলোকিত সকাল: বলার সময় তো সবাই বলে গতানুগতিক ধারার বাইরে, ভিন্ন গল্পে কাজ করছি। তাহলে সবার মুখে সবসময় এই একটা বুলি মুখস্থ থাকে কেন?

সালমান মুক্তাদির: এটার কোন উত্তর নেই। জাতিগত ভাবেই আমরা কমিটমেন্টকে অনেক হালকা ভাবে দেখি। গতানুগতিক ধারার বাইরে কাজ করছি, এটা শুনতে চাই না আমরা কেউ। শুনতে চাই এমন কি কাজ কাজ করেছেন যেটাতে মনে হলো এটা গতানুগতিক ধারার বাইরের কাজ! যদি বলতেই না পারে তাহলে তো যেই লাউ সেই কদু। আরিয়ান ভাইয়ের কাজ আমার ভালো লাগতো। উনার সাম্প্রতিক কাজ দেখা হয়নি। আর বান্নাহ ভাইয়ের কাজও দুর্দান্ত। উনি অনেক সিম্পল একটা গল্পকে খুব সুন্দরভাবে পোর্টে করতে পারে।
আলোকিত সকাল: এমতাবস্থায় দর্শক কি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না? দর্শককে টিভিমুখী করতে হলে আসলে কি করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

সালমান মুক্তাদির: টেলকো এবং অন্যান্য যে বড় ব্র্যান্ড আছে তাদের উচিত কোয়ালিটি কন্ট্রোল টিম তৈরি করা। আর এটা হলে স্পন্সরড করা নাটকগুলো এতোই ভালো হতো যে খোলা মাঠে সেই নাটকের প্রিমিয়ার করা যেত। এখনও সবাই ওই একই জায়গাতেই আটকে আছে। তিন বন্ধু মিলে ট্যুরে যাওয়া, এক মেয়েকে ভালবেসে তার পিছনে দৌড়ানোর গল্প আর কত! সবচেয়ে বড় কথা কোন বিশেষ দিবস কিংবা উপলক্ষে সব চ্যানেল মিলে প্রায় ৩০০টির মত নাটক প্রযোজনা করে যার প্রায় ২৫০টি নাটকের কাস্টিং থাকে প্রায় একই। সব চ্যানেল নাটকের মাধ্যমে একসাথে একই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রমোট করছে। অভিনয়শিল্পীদের কথায় দর্শক কেন বিশ্বাস করবে যে কোন নাটকটা আসলেই ভালো? কারণ সে যেই নাটক করে সেটাই দেখতে বলে, সেটাকেই সেরা বলে। এদিক থেকে মার্কেটিংয়ের কোন হদিস নেই, ভ্যালু ক্রিয়েশন নেই। কাজের সম্পর্কে মিথ্যা ও এই অনৈতিক অনুশীলনের কারণে একটা ভালো নাটক অনেক সময় প্রকাশ পায়না, দর্শক পর্যন্ত পৌঁছায় না। ইউটিউব চ্যানেলে আমার অনেক ভিডিও আছে কিন্তু আমি তো সবগুলো প্রমোট করিনা। কারণ আমি জানি কোনটা ভাল কাজ।

আলোকিত সকাল: একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর ইমেজ ও অভিনয় দিয়ে অনেকসময় তো একটা দুর্বল গল্পের নাটকও উৎরে যায়। সেটাকে কি বলবেন?

সালমান মুক্তাদির: সম্ভব না। বরং একটা বড় শিল্পী ডুবতে পারে একটা দুর্বল গল্পের নাটকের জন্য। দর্শক এখন আর এতটা বোকা না যে চেহারা দেখে যা-ই দিবে তাই খাবে।

আলোকিত সকাল: তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, যেটা ভালো সেটাকেই শুধু ভালো বলে প্রচার করা উচিত শিল্পীদের? আর এটা ক’জনই বা করে? সবাই তো নিজেদের প্রমোট করা নিয়ে ব্যস্ত।

সালমান মুক্তাদির: না, আমি সেটা বলছি না। আমার তো অনেক কাজ আছে। কিন্তু আমি সেটাই প্রচার করেছি যেটা জানি হিট হবে। কিন্তু এটাও মানতে হবে সবাই তো আর আমার মত ড্যাম কেয়ার না। সবাই চায় পরিচালক-প্রযোজককে খুশি করতে, হাতে রাখতে। মিশু সাব্বিরকে আমি অনেক বেশি সম্মান করি কারণ তিনি শুধুমাত্র পর্দায় এফোর্ট দেওয়ার জন্য নিজেকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করার জন্য ফিটনেস শুরু করেছে। এরকম আর কয়জন আছে এখানে? আমি জানি এটা কত কষ্টকর একটা ব্যাপার। দর্শকরা তো উনার এফোর্ট দেখেনি কিন্তু পর্দায় তাকে ঠিকই ভালোবাসছে।

আলোকিত সকাল: কিন্তু অনেকেই তো বলে যে গল্প ও চরিত্র দেখে নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করেই তারা কোন একটি কাজ করেন। আর গল্প খারাপ হলে দোষ বর্তায় স্ক্রীপ্ট রাইটারদের উপর।

সালমান মুক্তাদির: নির্মাণ দিয়ে লুকে পরিবর্তন আনা যায় কিন্তু চরিত্র না। এটা আগে বুঝতে হবে। আর গল্পের বিষয়টাও তো সত্যি। শিল্পীদের কাজ অভিনয় করা। গল্প যদি ভালো না হয় তাহলে অভিনয় করে কি লাভ?

আলোকিত সকাল: কিন্তু এদিকে আবার স্ক্রীপ্ট রাইটাররা তো অভিযোগ তুলে পরিচালকের বিরুদ্ধে, সেইসাথে কারণ দর্শায় বাজেটের ঘাটতি। পরিচালক নাকি তাদেরকে সময় বেঁধে দেন, জুটিও বেঁধে দেন গল্প লিখার সময়। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গল্প তৈরি করতে এবং সেই পছন্দ করা জুটিকে বেইজ করে গল্প লিখতে হবে। এটাকে কি বলবেন?

সালমান মুক্তাদির: বাজেট এবং সময়ের জন্যই প্রোডাকশন খারাপ হয়। গল্প তো আর টাকা কিংবা শুটিংয়ের সময় দিয়ে বানানো হয় না। এখন বলতে পারেন বাজেটের কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের দৃশ্য ঠিকমত দেখাতে পারেন নাই, ইমোশনটা ফুটে উঠে নাই। এখন এটা বলেন যে বিয়েতে এমন বিশেষ কি আছে যেটা আপনার গল্পকে ইউনিক করে তুলবে? তাহলে প্রযোজক কেন টাকা দিবে যদি গল্পেই এমন কোন ভ্যালু না থাকে! সমস্যাটা হচ্ছে সবাই সবার দোষ দেওয়ায় ব্যস্ত। নিজের কমতিটা শেয়ার করার সৎ সাহসটা কারও নেই।

আলোকিত সকাল: বাজেটের কারণে গল্প থেকে পারবারিক আবহ হারিয়ে যাচ্ছে। মা-বাবা, দাদা, দাদী সহ অনেক চরিত্রই এখন আর গল্পে দেখা যাচ্ছে না। নায়ক নায়িকা নির্ভর গল্প নিয়েই কাজ হচ্ছে শুধু। নাটকে আগের মত একান্নবর্তী পরিবারের দেখা পাচ্ছে না দর্শক। এ বিষয়ে কি বলবেন?

সালমান মুক্তাদির: যেই বাজেট দেওয়া হয়, সেই বাজেটে আরাম করে মাল্টি কাস্টিং নিয়ে কাজ করা যায়। আমি তো একই বাজেটে ৫ জন বড় শিল্পী নিয়ে নাটক নির্মাণ করেছি। আমি পারলে তারা কেন পারবে না? বাজেট কোন ইস্যু না। দোষ স্বীকার করতে ইগোতে লাগে অনেকের। আমি জানি ভালো নাটক বানাতে জনপ্রিয় শিল্পী লাগে না। আমি জনপ্রিয়ের চেয়ে ভালো শিল্পীতে বিশ্বাসী। যদি বাজেট ঘাটতি থাকে তাহলে আমি ভালো শিল্পী নিবো, জনপ্রিয়ই কেন নিতে হবে?

আলোকিত সকাল: এক্ষেত্রে টিভি চ্যানেল নাকি ফেইস ভ্যালু চায় শুধু?

সালমান মুক্তাদির: ‘প্রেম মোহাব্বত ভালোবাসা’ নামে আমি একটি নাটক নির্মাণ করেছিলাম আমার নিজের প্রোডাকশন থেকে। অনেক বাজে একটা কাজ এটা। ঈদের দুইদিন আগে শুট করে এডিট করে কাজটা শেষ করেছি। অথচ এই কাজটার মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ ইউটিউবে। কিন্তু কাজটা আমার অপছন্দের। সেটা আমার মত একজন অপেশাদার নির্মাতা বানাতে পারলে পেশাদার নির্মাতারা কেন ভালো নাটক বানাতে পারবে না? আর টিভি চ্যানেলের অবস্থাও এখন ভালো না। উনাদের ডিমান্ড চাওয়ার পেছনেও ভালো যুক্তি থাকতে হবে। তাদের চ্যানেলেরই তো এখন ভ্যালু নেই। ফেইস ভ্যালু দিয়ে কি করবে। সবাই তো এখন ইউটিউবে নির্ভরশীল।

আলোকিত সকাল: বাজেটই যদি মূল সমস্যা হয় তাহলে, দেশের বাইরে যে দুইজন তিনজন নিয়ে নাটক নির্মাণ করে নিয়ে আসছে সেগুলা কিভাবে হয়? দেশের বাইরে গেলে তো অনেক টাকা ব্যয় হয়। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নেপালের মত দেশে টানা দশ পনের দিন শুটিং করেন নির্মাতারা। সেগুলোর টাকাও তো টিভি চ্যানেল দেয়। তাহলে সেই একই বাজেট দেশের শুটিংয়ে দেয় না কেন?

সালমান মুক্তাদির: এটা মূর্খতার পরিচয়। টিভি চ্যানেল এবং প্রযোজকরা মনে করে দেশের বাইরে শুট করলে নাটকটা খুব এক্সক্লুসিভ হয় সেটাতে আলাদা বিশেষত্ব থাকে। আমার কথা হলো যদি একটা নাটক খারাপ হয় সেটা তো দুই জায়গাতেই হতে পারে, সেটা বাংলাদেশেই করুক বা ব্যাংককেই করুক না কেন! বরং সেই বাজেটে ভালো নির্মাতা দিয়ে দেশেই ভালো নাটক নির্মাণ করা যায়।

আলোকিত সকাল: ওয়েব সিরিজ নামে ইউটিউবের জন্য যে কনটেন্ট গুলো নির্মাণ হচ্ছে সেগুলো কি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য পজেটিভ নাকি নেগেটিভ?

সালমান মুক্তাদির: শিল্প কখনই পজেটিভ বা নেগেটিভ হয় না। শিল্প মানেই হচ্ছে উপলব্ধি। যে যার চোখে যেমন দেখে। কিন্তু বাংলাদেশের কোন ওয়েব সিরিজই আমার কাছে ভাল লাগে না। মূলত ওয়েব সিরিজের নামে সেই নাটকগুলোকে ইউটিউবে আপলোড করে দেওয়া আর কি।

আলোকিত সকাল: আপনার দৃষ্টিতে ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই মূহুর্তে উপায় কি?

সালমান মুক্তাদির: সদিচ্ছা আর প্রচেষ্টা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments