উড়ছে টাকা-মদ-মাদক-সোনা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

টাকা উড়ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক উৎসবে যেন টাকার বন্যা বইছে! এক, দু-কোটি নয়, হাজার হাজার কোটি টাকা। সঙ্গে সোনা-রূপা, মদ-মাদক এবং আরো কত কী! ভারতের লোকসভা নির্বাচনে কথা ও বর্ণময় প্রচারে কোটি কোটি টাকা খরচ করার অভিযোগ। কোথাও আবার নগদ ও নানা উপঢৌকন দিয়ে ভোট কেনার সেই ট্রাডিশন সমানে চলছে।

এই বেআইনি বা কালো টাকা ধরার জন্য ভারতের নির্বাচন কমিশন আয়করসহ কয়েকটি এজেন্সিকে দিয়ে ফাঁদ পেতেছেন ঠিকই। কিন্তু তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্রোতের মতো টাকা খরচ আটকাচ্ছে না। একটা বেসরকারি হিসাব হল, এবারের ভোটে ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কমিশন এর ১০ শতাংশ অর্থও বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। তবু উদ্ধার হয়েছে, এর অঙ্কও ফেলনা নয়।

গতকাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দেয়া হিসাব বলছে, বিভিন্ন এজেন্সি গোটা দেশে তল্লাশি চালিয়ে ৮৩৬.৭০ কোটি নগদ, ২৯১.১৮ কোটি টাকার মদ, ১২৬৭.৭১ কোটি টাকার মাদক, ৯৮৫.৬৭ কোটি টাকার সোনা ও অন্যান্য ধাতুর অলংকার এবং ৫৮.১৩ কোটি টাকার অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। সব মিলিয়ে টাকার অংকে যা ৩৪৩৯.৩৮ কোটি।

কালো ধন উদ্ধারে পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গও। বাংলায় বিমান-রেল-সড়ক পথে কোটি কোটি হাওয়ালার টাকা ঢুকেছে বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ মিথ্যা নয়। নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্যই বলছে, এই রাজ্যে যা উদ্ধার হয়েছে, তার কোনও নজির অতীতে নেই। পুলিশের তথ্য বলছে, বেআইনি লেনদেন করতে গিয়ে যারা ধরা পড়েছে, তাদের একটা বড় অংশ ভিন রাজ্য থেকে এসেছেন।

বেআইনি লেনদেনের এই দেয়া-নেয়ায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী থেকে মমতা— সকালেরই আঙ্গুল উঠেছে বিজেপির দিকে। ভোট কিনতে এবং বাইরে থেকে এই রাজ্যে লোক ঢোকাতে বিজেপি দেদার টাকা খরচ করছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেত্রীর। এক কোটি টাকার থলি নিয়ে রেল পুলিশের জালে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক গৌতম চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গেরুয়া বাহিনীর আরো কয়েকজন ধারা পড়েছে লক্ষ-কোটি টাকাসহ। এই টাকা কোথা থেকে এসেছে, কোথায় কী উদ্দেশ্যে যাচ্ছে— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ৬৬.৮৪ কোটি টাকা নগদ, ২০.০৫ কোটি টাকার মদ, ৪.০৭ কোটি টাকার মাদক, ১৮.৫৮ কোটি টাকার সোনা, ৩.৩৪ কোটি টাকার অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে টাকার অঙ্কে ১১৩.৩৩ কোটি টাকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর যদি দেখা যায়, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ বা আঞ্চলিক দলগুলোর জোট- কোনও পক্ষই যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তখন জয়ী সাংসদ কিনতে রাজনীতির মাঠে টি-২০ ম্যাচ শুরু হবে। বলাই বাহুল্য, সেই ম্যাচে বিজেপিকে ঠেকিয়ে রাখা মুশকিল।

আস/এসআইসু

Facebook Comments