উলিপুরে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

উলিপুরের চরাঞ্চলগুলোর বেশির ভাগ পরিবারের ভাগ্য বদলে যায় গবাদি পশু পালন করে। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় এসব চর ডুবে গেছে। ফলে এসব চরের মানুষ তাদের পশুখাদ্যের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পশুখাদ্যের। ব্রহ্মপূত্র, ধরলা ও তিস্তার বিশাল চরে জন্ম নেওয়া আগাছা তাদের পশুখাদ্যের প্রধান নির্ভরতা।

ডুবে থাকা চরগুলো জেগে উঠছে। সেগুলো বালুতে ঢেকে গেছে, খড় পচে গেছে পানিতে। সব মিলিয়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আর স্থানীয় হাটবাজারগুলোতেও পশুখাদ্য চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সামনের কোরবানির ঈদে বেশি লাভের আশায় গরু পালন করলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নের চর ঘুগুমারী গুচ্ছগ্রামে গিয়ে কথা হয় আব্দুস ছবুরের সঙ্গে। তিনি ২১টি গরুসহ আশ্রয় নিয়েছেন ঐ গ্রচ্ছগ্রামে। তিনি বলেন, ‘চরগুলো ডুবে গেছে, যা খড় ছিল তা-ও শেষ হয়ে গেছে। চরগুলো ডুবে থাকায় সেখানে বালুতে ঢেকে গেছে আগাছা। কীভাবে যে গরুগুলোকে বাঁচাব!’

ঐ গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নেওয়া নুর ইসলাম জানান, ‘১৩টি গরু ও চারটি মহিষ নিয়ে এখানে আছি। ফিরে গিয়ে কী খাওয়াব সেটাই চিন্তা।’ ঐ গুচ্ছগ্রামে পাঁচ শতাধিক গরু ও শতাধিক মহিষ নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বন্যাকবলিত পরিবারগুলো।

জানা গেছে, উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত বজরা, থেতরাই, গুনাইগাছ, দলদলিয়া ও ব্রহ্মপ্রত্র নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত সাহেবের আলগা, বেগমগঞ্জ, বুড়াবুড়ি, হাতিয়া ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা সম্প্রতি বন্যায় দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। এর কারণে প্রচুর পরিমাণে পশুখাদ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে চরাঞ্চলে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু বাঁচাতে স্থানীয় হাটবাজার থেকে পশুখাদ্য চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন খামারিরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, ইতিমধ্যে সরকারিভাবে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকদের গোখাদ্যের জোগান দিতে বিতরণ করা হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments