উখিয়ায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকহারে ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অপরিকল্পিতভাবে ঘর-বাড়ি নির্মাণের কারণে কৃষি উত্পাদনের লক্ষমাত্রা হ্রাসের আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি অফিস। দীর্ঘ দিন খরা ও প্রচণ্ড তাপমাত্রায় জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কৃষক আমন চাষ নিয়ে হতাশায় ভুগছিল। সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বর্ষণে কৃষি জমি চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে। এমনকি অধিকাংশ জমিতে জলাবদ্ধতা সত্ত্বেও কৃষকরা সেখানে আমন চারা রোপণ করে যাচ্ছে। তারা বলছে, সরকার দফায় দফায় বোরো ধান ক্রয় করার কারণে কৃষকরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রয় করে লাভবান হয়েছে। তাই শতপ্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমন চাষাবাদে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবাই সচেষ্ট।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উখিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমিতে চারা রোপণের জন্য প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রোপণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বর্ষণে কিছু জমি জলাবদ্ধ হলেও উঁচু জমিগুলোতে কৃষকরা ইতিমধ্যেই আমন চারা বপন শেষ করেছে।

রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলাম ও আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন কৃষক জানান, যেভাবে খরা চলছিল তাতে তারা আমন চাষের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে হঠাত্ পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষাবাদে আর কোনো বাধা নেই।

তবে পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমারখোলা গ্রামের কৃষক ছলামত উল্লাহ, ইসলাম মিয়া ও রফিক মিয়াসহ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা শুষ্ক মৌসুমে চিংড়ি চাষ করে থাকেন। বর্ষায় ঐসব জমিতে আমন চাষ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বর্তমানে একদিকে রোহিঙ্গাদের জমি দখল ও যত্রতত্র পরিকল্পনাহীন স্থাপনা নির্মাণের কারণে পালংখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ জমি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে পানি না শুকানো পর্যন্ত আমন চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। একাধিক কৃষক জানান, জমি থেকে পানি সরে না যাওয়ার কারণে কিছু বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের আমন চাষের কোনো পরিবেশ নেই। তথাপি পেটের দায়ে অনেকেই কষ্ট করে আমন চাষাবাদ করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম এসব বিষয় স্বীকার করে বলেন, পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়নে প্রায় ১০০ একরের মতো ফসলি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে ভাড়াবাসা তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে চলতি মৌসুমে উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত।

আস/এসআইসু

Facebook Comments