ঈদ পরবর্তী পরিকল্পনাও নেই

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত এক যুগে প্রতিটি ঈদের পর আন্দোলন, পুনর্গঠন বা সংগঠনিক যেকোনো পরিকল্পনার বিষয়ে আগাম জানান দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এবার ঈদ-পরবর্তী কোনো পরিকল্পনাই করতে পারেনি দলটি। ঈদের পর খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন হওয়া উচিত- এমন আলোচনার মধ্যেই দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিএনপি সূত্রমতে, ঈদের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির একদফা আন্দোলনে যাওয়ার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীরা চাপ দিয়ে আসছেন। কিন্তু সিনিয়র নেতারা তাদের জানিয়েছেন, সরকার খালেদা জিয়ার মুক্তির বিপক্ষে। এ অবস্থায় আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না। আর আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক অবস্থাও বিএনপির নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের বাইরে দলের বড় একটি অংশের মত হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার। কিন্তু দলের সিনিয়র নেতারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার বিপক্ষে। তাদের পরিষ্কার বক্তব্য, শপথ নিয়ে পূর্ণ মেয়াদের সরকারের বৈধতা দেয়া হয়েছে। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন কাজে আসবে না। এ জন্য পরবর্তী নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার অবর্তমানে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। কেউই নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে থাকতে চাচ্ছেন না। সবাই নিজের মতো করে মত দিচ্ছে। এ জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু আড়ালে-আবডালে ঝটিকা মিছিল করে দলের অস্তিত্বের জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন জনাকয়েক নেতাকর্মী। এ অবস্থায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান করতে ঈদের পর নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। সেখানে সবাই কথা বলার সুযোগ পাবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপির মাধ্যমে যুক্ত হবেন বৈঠকে। সেখান থেকেই পরবর্তী একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে চায় দলের হাইকমান্ড।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে যেটা করা দরকার ছিল, সেটা করা হয়নি। অচিরেই দল পুনর্গঠন করে জনসম্পৃক্ত শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথা সবাই বলছে। কিন্তু কি প্রক্রিয়ায় হবে, এর বাস্তবসম্মত মত কেউই দিচ্ছে না।

বিএনপির এমপিদের সংসদে যোগ দেয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টির ইঙ্গিত ছিল জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, সরকারের সঙ্গে বাকিতে আলাপের কারণেই ফাঁকির ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বিএনপি সংসদে গেলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় পরবর্তী কার্যক্রমের কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত বিএনপি করতে পারেনি।

বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কিছু না বললেও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আর আন্দোলনের ভাবনার বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দলকে সুসংগঠিত করে আন্দোলনে যেতে হবে। আগে নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। ভুলগুলো শুধরাতে হবে। যে পর্যন্ত ভুলগুলো শুধরানো না হবে, সে পর্যন্ত আন্দোলন করে বিজয়ী হওয়া যাবে না।

আর একই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলীয়প্রধানের মুক্তির আন্দোলন এখন সারাদেশের নেতাকর্মীদের দাবি। সংগঠন গুছিয়ে আন্দোলনকে জোরদার করা হবে।

বিএনপি কোনো ধরনের পরিকল্পনা করতে না পারলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন দলের শুভাকাঙ্ক্ষী মহল। এ বিষয়ে দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুলস্নাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপিকে রাস্তায় নামতে হবে। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বল্প পরিসরে রাজপথে নামার বিষয়টি ইতিবাচক। তবে তাদের বৃহৎ পরিসরে রাজপথে নামতে হবে। বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেও মিছিল বের হতে হবে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদেরও রাস্তায় নামতে হবে। তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জোরাল হবে। তখন সরকারও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে। এই কাজটি বিএনপিকে করতে হবে। ঘরে বসে শুধু সভা-সেমিনারে কাজ হবে না। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতেও বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. জাফরুলস্নাহ চৌধুরী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box