ঈদে বিয়ের ধূম পড়েছে!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের সঙ্গে এখন নানা উপলক্ষও চলে আসে। বিশেষ করে ঈদের ছুটি যদি দীর্ঘ হয়, তবে আত্মীয়-স্বজন ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে ব্যস্ত থাকে। এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে। সরেজমিনে লক্ষ্য করা যায়, ময়মনসিংহ শহরের একই মহল্লায় তিন জনের বিবাহ হল গত শুক্রবার (৭ জুন), তাদের মধ্যে সাংবাদিক, শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছে। যাদের তিন জনই অন্য যেকোন সময় ব্যস্ত থাকে নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রে। তাই ঈদের ছুটিতেই বিয়েটা সেরে ফেলেছেন। এমন চিত্র শুধু ময়মনসিংহেই নয় এ চিত্র এখন সারা বাংলাদেশে।

ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন পাড়া-মহল্লা একত্রিত হয়। তাই বিয়েটা এখন ঈদ কেন্দ্রিক হয়ে গেছে বলে আর. কে. মিশন রোডের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক মো. তোফাজ্জল হোসেন (৮১) বলেন, সারা বছর কর্মক্ষেত্রের কারণে অনেককেই একত্রে পাওয়া যায় না। কিন্তু ঈদ আসলে সকলকে এক সঙ্গে পাওয়া যায়। সে জন্যই সকলে এখন ঈদকে বিয়ের মৌসুম বানিয়ে ফেলেছে। এটা দোষের কিছু নই, ঈদ মানে আনন্দ এবং বিয়েও আনন্দ। অতএব এটা বরং একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, এক সাথে দুই আনন্দ উপভোগ করছে মানুষ।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যয়, এবারও তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর জুড়ে বিয়ে উৎসব অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই শত শত বাড়িতে চলছে বর-কণেকে একত্রিত করার বিয়ে উৎসব। ঘর থেকে রাস্তায় বের হলেই দেখা মিলছে বিয়ে উৎসবের।

এ আয়োজনের প্রধান মেহমান বরকে বরণের জন্য মাঝে মাঝে চোখে পড়বে সাজানো দৃষ্টিনন্দন গেইট। থানার রুপনাই, খুকনী, গোপরেখী, এনায়েতপুর, খামারগ্রাম, খোকশাবাড়ি, গোপিনাথপুর, শীবপুর, রুপসী, সৈয়দপুর জুড়ে চলছে এই উৎসব।

ময়মনসিংহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ ওয়ালী উল্লাহ মাদুদ জানান, সারা বছর এত ব্যস্ত থাকেন, বিয়ে করার সময়ই পান না। ঈদের ছুটিতে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকায় এই ফরজ কাজটা করে নিলাম। এছাড়াও আরও বড় কারণ হল আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা এই ছুটিতে বাড়ি আসছে, তাদেরকে অন্য সময় পাওয়া যাবে না। সেজন্য ঈদকে বেছে নিয়েছি। আনন্দটা এবার দ্বিগুণ হয়ে গেছে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী।

এছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, আমি মূলত আত্মীয়-স্বজনকে একত্রে পাব বিধায় ঈদে বিয়ে করা। আমার পিতাও চাইছিল আমি বিয়ে করি। ঈদে সকলে আসবে, তাই বিয়েটা করে ফেলা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box