ঈদের পর ১৬ উপজেলায় ভোট মিশন

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দীর্ঘ আড়াই মাস বিরতি শেষে আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট গ্রহণ। ওই ধাপের জন্য ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রথম চার ধাপের সব বিতর্কে পেছনে ফেলে এবার বিতর্কমুক্ত ফসল ঘরে তুলতে চায় টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি। দলটির টার্গেট সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়া। এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন তারা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষমতাসীন আ.লীগ নিরষ্কুশ বিজয় অর্জন করলেও মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে শুরু হওয়া পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘটে উল্টো ঘটনা।

স্থানীয় সরকার ওই নির্বাচনে দেশের ১৩৫টি উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্রের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যায়। অথচ স্থানীয় সরকারের ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ সরকারবিরোধী দলগুলো ভোটের মাঠে ছিল না।

সংসদ নির্বাচনে নিরষ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এমন হার মেনে নিতে পারেনি আ.লীগের হাইকমান্ড। তাই প্রথম চার ধাপের নৌকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে অনেকাটাই নীরব থাকলেও পঞ্চম ও শেষ ধাপের নির্বাচনে বিতর্কমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থানে থাকবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই ইতোমধ্যে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিত্বে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছে তারা।

শুধু তাই নয়, শেষ ধাপের ভোটের মাঠে এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। বিশেষ করে টানা তৃতীয় মেয়েদে সরকার গঠন করেও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পক্ষপাতিত্ব ঠেকাতেই পারেনি ক্ষমতাসীন দলটি।

ওই সকল সংসদ সদস্য ও সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ও জেলা-উপজেলা আ.লীগের সভাপতি-সম্পাদক ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ওই সকল সংসদ ও তাদের অনুসারীদের নিজ কেন্দ্রেও নৌকা প্রতীকে ভরাডুবি হয়।

অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেই তারা ওই নৌকা প্রতীকের কারণে ক্ষমতা বাগিয়ে নিয়েছে। তবে এবার পক্ষপাতিত্বকারী সংসদ ও নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে আ.লীগের হাইকমান্ড। ইতোমধ্যে তাদের জন্য কঠোর বার্তা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আ.লীগ।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র কদিন। তবে ঈদকে সামনে রেখে আপাতত মাঠে নামছে না তারা। ঈদের পরই নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করবে সমর্থকরা। কিন্তু ভোটের মাঠে না নামলেও থেমে নেই ভোটের কার্যক্রম। দেড় মাসের ব্যবধানে ফের নির্বাচনের মাঠে ভোটের মিশনে নামার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রার্থীসহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

তবে ঈদকে সামনে রেখে প্রতিক পাওয়ার পার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বড় বড় ব্যানার ফেস্টুনে দোয়া কামনায় সাঁটিয়েছেন। একই অপেক্ষায় রয়েছে আ.লীগের দলীয় প্রতীকের প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।

অন্যান্য নির্বাচনের মতোই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয় নিশ্চিত করতে চায় তারা। অবশ্য বিজয় নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলকে দিকনিদের্শনা দেয়া হয়েছে। চিহ্নিত করা হচ্ছে বিগত সময়ের হারের কারণ।

নৌকার ভরাডুবি ঠেকাতে তাই নির্বাচনের আগে আরো কঠোর হতে পারে আ.লীগের হাইকমান্ড। সব মিলে ঈদের পরেই ১৬ উপজেলায় নতুন করে ভোটের মিশনে নামবে টানা তৃতীয় মেয়েদে ক্ষমতায় থাকা দলটি। এবার টার্গেট সব উপজেলাতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা।

ইসি সূত্রমতে, পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন ১৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হয়। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল চলতি মাসের ২১ তারিখ। যাচাই-বাছাই শেষদিন ছিল ২৩। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে বৃহস্পতিবার।

সবগুলোই সুষ্ঠুভাবে সম্পান্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঈদের পরেই যে উপজেলাগুলোতে ফের ভোটের আমেজ শুরু হবে-শেরপুরের নকলা, নাটোরের নলডাঙ্গা, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, বরগুনার তালতলী, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, গাজীপুর সদর, রাজবাড়ীর কালুখালী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, মাদারীপুর সদর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার বাঞ্ছারামপুর ও বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এবং নোয়াখালী সদর উপজেলা।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান জানিয়েছেন, শেষ ধাপের ছয়টি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এগুলো হলো— গাজীপুর সদর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, বাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ এবং নোয়াখালী সদর উপজেলা।

গত ১০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চার ধাপে দেশের ৪৪৫টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট হয়। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অল্প কয়েকজন বাদে ১৩৫টি উপজেলায় জয়ী চেয়ারম্যানদের প্রায় সবাই আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। ময়মনসিংহের ৮টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতেই জয় পেয়েছেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

খুলনার আটটি উপজেলার মধ্যে চারটিতে বিদ্রোহীদের কাছে হেরেছেন আ.লীগের প্রার্থীরা। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের তিনটি, কুমিল্লায় দুটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি, মুন্সিগঞ্জের দুটি, পটুয়াখালীর একটি, ভোলার একটি ও ঢাকার পাঁচটি উপজেলার একটিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়ে ছিলেন।

এর আগে তৃতীয় ধাপে লক্ষ্মীপুরের তিনটিতেই নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ধরাশায়ী হন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে। কক্সবাজারের চারটি উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন দলীয় প্রার্থীরা। এর বাইরে সারাদেশেই অনেক স্থানেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরাজয় ঘটে। শুধু হয় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিভক্তি।

আ.লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটকে কেন্দ্র করে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের প্রকাশ ঘটলে এবং সেসবের জন্য দল সমালোচনার শিকার হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দলের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত মাঠে ছড়িয়ে পড়ে কি না সেদিকেও দল থেকে কড়া নজরদারি রাখা হবে। এবার বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে কেন্দ্রীয় পর্যায় এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিলেও কোন্দলের জের ধরে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ব্যবস্থা নিবে আ.লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি ইতোমধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের এমন নির্দেশনাও দিয়েছে বলে সূত্রে নিশ্চিত করেন। আ.লীগে সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, ঈদের পরই অনুষ্ঠিত হবে শেষ ধাপের নির্বাচন।

ওই নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার জন্য দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় আ.লীগের পক্ষে থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। তারা সেই নিদের্শ অনুযায়ী ভোটের মাঠে কাজ করবে।

তিনি বলেন, শেষ ধাপের নির্বাচনে আ.লীগে কোনো নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর বাইরে গিয়ে বিতর্ক তৈরি চেষ্টা করলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে আমারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করব।

আস/এসআইসু

Facebook Comments