ঈদের পর আ.লীগে শুদ্ধি অভিযান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দলটিতে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে ভিন্নপন্থি নেতাদের অনুপ্রবেশ। এবার ওই সব অনুপ্রবেশকারী ও ভিন্নপন্থি নেতাদের ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগের হাই-কমান্ড। ঈদুল ফিতরের পর দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটি। একই সঙ্গে যাদের হাত ধরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তাদের তালিকা তৈরি করবে।

সূত্রে মতে, টানা ১০ বছরের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দলের প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে আওয়ামী লীগের প্রবেশ করেছে জামায়াত-বিএনপির অনেক নেতা। বিশেষ করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে অনেকেই।

তারা নিজেদের সুবিধা আদায়ের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের কোন্দল সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, ওই সকল অনুপ্রবেশকারী ও ভিন্নপন্থি নেতারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ করছে অনেকেই। যা নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় ক্ষমতাসীন আ.লীগ। এ জন্য আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো শুদ্ধি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে
ক্ষমতাসীনরা। অভিযানের লক্ষ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফরের জন্য দলের গঠিত আটটি বিভাগীয় টিম ঈদের পর পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করবে।

ক্ষমতাসীন দলে ঠাঁই নেয়া বহিরাগত ও নানা অপকর্মে জড়িতদের চিহ্নিত করে তখন দল থেকে বের করে দেয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে তৃণমূলের জনপ্রিয়, ত্যাগী ও সৎ নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে।

আ.লীগের সূত্র জানায়, দলের আটটি বিভাগীয় টিমের লক্ষ্য সারা দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন। একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দল থেকে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অবশ্য অন্য দল থেকে আ.লীগে যোগ দেয়া অনেক নেতার বিষয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আ.লীগ তদন্ত শুরু করেছে। কারো কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলেও কোনো না কোনোভাবে শাস্তির আওতায় আসবেন অনুপ্রবেশকারীরা। তৃণমূল পর্যায় থেকে দলের নেতাকর্মীদের তথ্যভাণ্ডার তৈরিতেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে কাজ করছে আ.লীগের জেলা উপজেলা শাখাগুলো।

সুযোগসন্ধানীদের আ.লীগের কোথাও স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় কাউন্সিলে দলের তৃণমূল থেকে ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের নেতৃত্বে এনে মূল্যায়ন করা হবে।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আ.লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, এবার সুবিধাবাদীদের অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না। সুযোগসন্ধানীরা চিরদিন এটা করে থাকে। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার- পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাকর্মীদের সংগঠন তৃণমূল থেকে নেতৃত্বে আনা হবে। কোনো খানে কোনো সুযোগসন্ধানীর স্থান হবে না।

কাদের আরো বলেন, ঈদের পরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মুজিববর্ষের কর্মসূচি মোটা দাগে পালনের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আর আমাদের জাতীয় সম্মেলন সারাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আমাদের দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে গত ১০ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হয় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মোট পাঁচটি ধাপে। ইতোমধ্যে চার ধাপের ভোট গ্রহণ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আ.লীগের দলীয় কোন্দল প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

বেশির ভাগ উপজেলাতেই নৌকার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন দলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আ.লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতার বিরুদ্ধে নানাভাবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ এপ্রিল এসব নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।

এ সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। আপাতত কারণ দর্শানোর চিঠি না পাঠিয়ে অভিযোগগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কারো বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ এসেছে কি না, দলীয় কোন্দলের রেশ ধরে এক পক্ষ অন্যপক্ষের নেতার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে কি না বা অভিযোগগুলোর পেছনে দলে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো চক্রান্ত আছে কি না সেসবও খতিয়ে দেখছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঢালাও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলে তৃণমূলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও শীর্ষ নেতাদের আশঙ্কা।

আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলে অনুপ্রবেশকারী নেতাদের সাথে নিয়ে আ.লীগের কিছু নেতা নৌকার বিরোধিতা করেছে। তাই দলে ওই সকল অনুপ্রবেশকারীর পাশাপাশি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আ.লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই ভিন্নপন্থি নেতাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বিতাড়িত করা হবে। ওই সকল নেতাদের বাঁচাতে এমপি, মন্ত্রী এবং দলীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা যদি সুপারিশ করে তাদের বিরুদ্ধেও দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাদের আ.লীগে থাকার সুযোগ নেই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments