ঈদের ছুটিতে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক জয়সাগর দিঘী ঘুরে আসতে পারেন

আমিনুল ইসলাম হিরো, রায়গঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জ এলাকাটি বেশ প্রাচীন। এখানে বেশ কিছু স্থাপনা আছে যেগুলো শত শত বছরের পুরনো। জয়সাগরের দিঘি এরকম একটি স্থান। বিশাল আকারের এই দিঘিটি স্থানীয় মানুষদের প্রিয় গন্তব্য।

ইতিহাস: জয়সাগর দীঘি নিয়ে বিভিন্ন রকম জনশ্রুতি আছে কেউ বলেন রাজা তার কয়েক লক্ষ গরু ও প্রজাদের পানি কষ্ট নিবারণের জন্য জয়সাগর দীঘি খনন করেন

আবার কেউ বলেন, ফিরোজ শাহ এর পুত্র বাহাদুর শাহ রাজা অচ্যুত সেনের কন্যা ভদ্রাবতীকে দেখে মুগ্ধ হন। বিয়ের প্রস্তাব দিলে রাজা অচ্যুত সেন প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় বাহাদুর শাহ ভদ্রাবতীকে অপহরণ করে নিমগাছিতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রাজা অচ্যুত সেন তাঁর সৈন্যবাহিনীসহ বাহাদুর শাহকে আক্রমণ করেন। নিমগাছি প্রান্তরে ব্যাপক যুদ্ধ হয়। মুষ্টিমেয় থাকায় বাহাদুর শাহ যুদ্ধে পরাজয়বরণ করেন (১৫৩২-৩৪ খ্রি.)। রাজা অচ্যুত সেন যুদ্ধে জয়লাভ করে ভদ্রাবতীকে উদ্ধার করেন। আর এ বিজয়ের স্মৃতি হিসেবে নিমগাছির কাছে রাজা অচ্যুত সেন ‘জয়সাগর’ নামে দিঘিটি খনন করান। যুদ্ধজয়ের কারণেই জয়সাগর নামে দীঘিটির নাম করন করা হয়।

আবার আর একটি লোককথা বলে ভিন্ন ঘটনা। জানা যায়, রাজার কোনও পুত্রসন্তান ছিল না। একদিন জনৈক সাধু জয় রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি যদি আধা-মাইল দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট একটি দিঘি খনন করেন, তাহলে তাঁর বৃদ্ধ বয়সেও একটি পুত্রসন্তান জন্মাবে। সাধুর উপদেশ-মতো দিঘি খনন করেন রাজা। পরের বছর রাজার একটি সন্তান জন্মাল। রাজা পুত্রের নাম রাখলেন জয়কুমার এবং তার নামানুসারে দিঘিটির নাম রাখলেন জয়সাগর। কিন্তু দীঘি খনন করলেও ১২ বছর পার হওয়ার পরও দিঘিতে পানি না আসায় রাজা হতাশ হয়ে পড়েন। এরকম সময়ে একরাতে রাজা স্বপ্নে দেখলেন, সেই সাধু রাজাকে বলছেন, তোমার পুত্র জয়কুমার বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যদি একমুঠো মাটি তুলে তবেই দিঘিতে পানি উঠবে, তা না হলে শত বছর ধরে দীঘি খনন করলেও পানির দেখা মিলবে না। রাজা পুত্রের বিয়ের আয়োজন করলেন। বিয়ে শেষে জয়কুমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যেই এক মুঠো মাটি তুললেন, অমনি হু-হু শব্দে পানি উঠে দিঘি পূর্ণ হয়ে গেল। আর জয়কুমার পানিতে ডুবে মারা গেলেন এই দিঘিটির দৈর্ঘ্য আধা-মাইল, প্রস্থ আধা-মাইলের কিছু কম। এটার আয়তন প্রায় ৫৮ একর। চার পাড়ে ২৮টি বাঁধা ঘাট দিয়ে জয়সাগর দীঘি তৈরি করা হলেও বর্তমানে এ ঘাটের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায় না। বর্তমানে এটি মৎস্য অধিদপ্তরের এর অধীনে মৎস্যচাষ প্রকল্পের আওতায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

অবস্হানঃ সিরাজগঞ্জ জেলার সোনাখাঁড়া ইউনিয়নের নিমগাছির পুল্লা ও গোতিথা মৌজার মাঝে জয়সাগর দীঘি অবস্হিত।
কেমন করে আসবেনঃ রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিঃমিঃ পশ্চিমে নিমগাছি বাজার এই বাজার হতে ৫০০ মিটার পশ্চিমেই ইতিহাস ক্ষ্যাত জয়সাগড় দিঘি। উপজেলা সদর হতে রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি মোটরসাইকেল যোগেই সহজে পৌছতে পারেন জয়সাগড়। হাতে সময় পেলেই আরো দেখতে পারেন ভোলা দেওয়ানের মাজার শরীফ, নয়াপুকুর দিঘি সহ বিরাট রাজার প্রাসাদ
এবং মহাভারতে উল্লেখিত রাজা উর্জুনের ভিট।

নিমগাছি বাজারে আবাসিক কোন হোটেল নেই, তবে বেশ কিছু খাবারের হোটেল আছে এখানে স্বল্প খরচেই রূচি সম্মত খাবার খেতে পারেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box