ঈদযাত্রা শুরু ঢাকাবাসীর

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ধর্মীয় এ উৎসব কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। চলতি সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, রবিবার শবে কদরের বন্ধ।

২৯ রোজা হলে বুধবার ঈদ তাই মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। সব মিলিয়ে আসছে সপ্তাহে এক দিন শুধু কার্যদিবস- সোমবার। কর্মজীবী যারা সেদিনের ছুটি নিয়েছেন, তাদের ঈদের ছুটি কার্যত গতকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে।

দেরি না করে এদিনই তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটতে শুরু করেন বাড়ির পানে। টিকিট কেনার যুদ্ধ শেষে শুরু হয়ে গেছে নিরাপদে বাড়ি ফেরার যুদ্ধ।

বাসস্ট্যান্ড, ট্রেন স্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনাল- সর্বত্রই গতকাল সকাল থেকে দেখা গেছে বাড়িমুখো মানুষের ভিড়। চাকরিজীবীদের অনেকে এদিন কর্মস্থল থেকে একটু আগেই বেরিয়ে যান, পরিবার-পরিজন নিয়ে শামিল হন বাড়ি ফেরার যুদ্ধে।

দুপুরের পর তাই যাত্রীদের ভিড়ে স্টেশনগুলো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। শুধু কর্মজীবী মানুষই নন, এ সমুদ্রে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়-পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।

গতকাল নগরীর কমলাপুর রেলস্টেশন ছাড়াও গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে, সদরঘাট লঞ্চঘাটে ছিল মানুষের স্রোত। দিন যত গড়ায়, সে স্রোত তত লম্বা হতে থাকে। বিকাল থেকে জনাকীর্ণ এলাকায় পরিণত সদরঘাট ও তার আশপাশের রাস্তা।

সেখানে ছিল দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষের ভিড়। গত ২২ মে থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। এদিন ৩১ মের টিকিট সংগ্রহ করেন যাত্রীরা।

কমলাপুরে গতকাল নারী, শিশু, বৃদ্ধ, যুবক-যুবতী সব বয়সী মানুষকেই সঙ্গে ব্যাগ নিয়ে প্লাটফরমে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে কাক্সিক্ষত ট্রেনের জন্য। বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আবু তাহের গতকাল কমলাপুর স্টেশনের স্ক্রিনের দিকে তাকাচ্ছেন বারবার।

চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস কত নম্বর প্লাটফরমে আসবে তা-ই দেখার চেষ্টা। আরেক পাশে অপেক্ষা করছেন তার স্ত্রী-সন্তান। মানুষের ভিড়ে স্টেশনের মাইকের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন না ঠিকমতো। তাই ডিজিটাল স্ক্রিনে তার নজর।

বললেন, ঈদের সময় সবাই একত্রিত হব, এর চেয়ে আনন্দের কী হতে পারে! যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই দেখা গেল, প্লাটফরমে এসেছে রাজশাহীগামী সিল্কসিটি।

শুরু হয়ে গেল যাত্রীদের দৌড়ঝাঁপ ট্রেনটি ধরতে। দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে জানালা গলেও ভেতরে প্রবেশ করেন অনেক যাত্রী। যারা কাক্সিক্ষত আসনে বসতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের চোখে-মুখে দেখা গেছে স্বস্তি। পিয়াল নামের এক যাত্রী বললেন, ‘সন্তান-সন্ততি নিয়ে একত্রে ঈদ উদযাপনের জন্য এই কষ্ট মানতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যরাও ঈদে বাড়ি যান।

সবাই মিলে কয়েকটি দিন সময় কাটাতে পারার চেয়ে সুখ আর কী হতে পারে?’ সড়কপথে বাড়ি ফেরার আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয় ১৭ মে থেকে আর ঈদযাত্রা শুরু হয় গতকাল থেকে।

বেসরকারি বাস মালিকদের মূল মনোযোগ সময়সূচি অনুযায়ী যেন বাস ছাড়ে, এ নিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবার অনেক কম সময়েই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে বলে মনে করছেন বাসমালিকরা।

বাসগুলোও কাউন্টার থেকে সময়মতোই গন্তব্যে ছুটছে। গতকাল গাবতলী, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন বেসরকারি বাস কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের ভিড়। গাইবান্ধার যাত্রী নাফিউল। চেপেছেন আল হামরা বাসে। তার বাড়ি গোডাউন রোডের পশ্চিমপাড়ায়। বললেন, এ শহরে বাস জীবিকার তাগিদে। আত্মীয়-স্বজন মিলে রোজার ঈদ করতে বাড়ি ফিরছি। সময়মতো ও নিরাপদে যেতে পারাই আমার প্রত্যাশা।

রাজধানীর সব কটি বাস টার্মিনালেই উপচেপড়া ভিড়। ঘরমুখো মানুষের পদভারে মুখরিত টার্মিনালের অলি-গলি। সামর্থ্য অনুযায়ী বাহনে উঠছেন গ্রাম থেকে ঢাকায় আসা এই মানুষগুলো। স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে যেন বাড়ি ফেরার আনন্দ আরও বেশি।

প্রিয়জনের জন্য ঈদের কেনাকাটা করে স্টেশন-টার্মিনালে ছুটছেন তারা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, সড়কপথে এবার যানজট কম হবে। গাজীপুর ছাড়া অন্যত্র তেমন গাড়িজটের আশঙ্কা নেই।

তবু মোবাইলকোর্ট, মনিটরিং সবই চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে কন্ট্রোল রুম বসেছে বিআরটিএ অফিসে। সেখানে মন্ত্রণালয়, সওজ, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা আছেন। এ ছাড়াও প্রতিটি বাস স্টেশনে মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সজাগ রয়েছে। গতকাল বিকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে শুরু হয়েছে ঈদের লঞ্চযাত্রা। ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় সদরঘাট ফিরে পেয়েছে ঈদের আমেজ।

বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লঞ্চ এসে ভিড়ছে আর যাত্রীবোঝাই হয়ে টার্মিনাল ছাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা একটু পর পর সতর্কতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

পন্টুনে একেকটি লঞ্চ আসা মাত্রই যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পুরো ডেক কানায় কানায় ঠাসা। কেবিনেও মানুষের ভিড়। সবার একটাই চাওয়া, ঈদে বাড়ি ফেরা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments