ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় ভয়ঙ্কর সব অজ্ঞান পার্টি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। এরপর তাদের দলের অন্য সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খেতে আমন্ত্রণ জানায়। টার্গেটকৃত ব্যক্তি রাজি হলে তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খাওয়ানো হয়। এসময় বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা নিজেরাও সাধারণ খাবার গ্রহণ করে। চেতনানাশকের প্রভাবে টার্গেটকৃত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে তারা মূল্যবান সামগ্রি নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে।

এমন সব ভয়ঙ্কর অজ্ঞান পার্টির ৬৫ জন সদস্যকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। আটক অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা নতুন কৌশলে প্রতারণা করছিল। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, ক্রিম জাতীয় বিস্কিট ইতাদি ব্যবহার করে। তবে এবার রোজা উপলক্ষ্যে খেঁজুরেও চেতনানাশক মিশিয়ে ব্যবহার করছে তারা।

শনিবার (১৮ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম।

শুক্রবার (১৭ মে) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের চারটি টিমের অভিযানে রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, কুড়িল বিশ্বরোড, ফকিরাপুল ও জয়কালি মন্দির এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। গোয়েন্দারা জানান, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশল পাল্টে এখন নতুন উপায়ে প্রতারণা শুরু করেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করে সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আ. ছালাম মীর, মো. ফালান, মো. মনির হোসেন, সাকিব হোসেন, ইকবাল হোসেন, মো. আফজাল হোসেন আরিফ, মো. মনির হোসেন, মো. সানী, মো. জুয়েল, মো. মিজানুর রহমান, মো. শামিম, মো. বাদল দেওয়ান, মো. সেলিম, মো. আসিফ উল রিন্টু, মো. শাহ আলম, মো. শাহিন, মো. আব্দুর রহমান, মো. রকিব, মো. টিটু, মো. আশরাফ, মো. রাশেল, মো. হোসেন, মো. সেন্টু মন্ডল, মো. রিপন সিকদার, মো. হৃদয় মিয়া, মো. মুন্না, মো. সেন্টু মাঝি, মো. আশরাফুল, মো. রেজাউল, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. রবিন আহাম্মেদ রাজ, মো. বাবু, মো. মাসুদ আলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সুমন, মো. রাজু, মো. ফজলে রাব্বী ও মো. সবুজ।

রাজধানীর ফকিরাপুর ও কুড়িল বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আলম,, মো. ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. নূরে আলম, মো. শহিদ আলী, মো. রুবেল হাওলাদার, মো. বাবু আকন্দ, মো. আব্দুল মোতালেব, মো. রুবেল মিয়া ও মো. রহমত আলী।

ওয়ারী থানাধীন জয়কালি মন্দির নামক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. জাহেদ, মো. রিয়াজ, মো. জসিম উদ্দিন ও মো. রুবেল।

গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা দক্ষিন বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. কাওসার মাহমুদ কিরন, মো. আজাদ, মো. জলিল ফকির, মো. মাইনুদ্দিন চিসতি, মো. রিপন হোসেন, মো. রতন ও মো. অনিক হাসান ওরফে শান্ত।

উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. জাকির হোসেন ওরফে ফয়সাল, মো. মাছুদ রানা, মো. মানিক, নুরজাহান ও শ্রাবনী।

তিনি অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের নতুন কৌশল সম্পর্কে বলেন, আগে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা মলম, চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে যাত্রীকে অজ্ঞান করার পর মালামাল ছিনিয়ে নিতো। এখন তারা শুধু মালামালই নেয় না, ভিক্টিমের মোবাইল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বলে আপনার আত্মীয় এখানে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। এখনই টাকা পাঠানো না হলে উনাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে টাকা পাঠানোর পর তারা ভিক্টিমের মোবাইল বন্ধ করে দেয়।

আটক অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে টার্গেট করে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলে তারা। পরে তাদের দলের অন্য সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খেতে আমন্ত্রণ জানায়। টার্গেটকৃত ব্যক্তি রাজি হলে তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খাওয়ানো হয়। এসময় বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা নিজেরাও সাধারণ খাবার গ্রহণ করে। চেতনানাশকের প্রভাবে টার্গেটকৃত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে তারা মূল্যবান সামগ্রি নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে।

এক্ষেত্রে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, ক্রিম জাতীয় বিস্কিট ইতাদি ব্যবহার করে। তবে এবার রোজা উপলক্ষ্যে খেঁজুরেও চেতনানাশক মিশিয়ে ব্যবহার করছে তারা।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার ভ্রমণে থাকা অবস্থায় অপরিচিত কোন ব্যক্তির দেয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং এই বিষয়ে সচেতন হতে সবাইকে আহ্বান জানান।

এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, যাদের ধরা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই আদালত থেকে এমন কোনো মামলায় জামিন বা খালাসপ্রাপ্ত। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই ভিক্টিমকে ছাড়া মামলা করতে হয় পুলিশের। ফলে আইনি দুর্বলতার কারণে আসামি জামিন বা খালাস পেয়ে থাকে। পরে জেল থেকে বের হয়েই তারা কৌশল বদলে আবার এসব কাজ করছে। আটকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments