ইফতারের ঐতিহ্য মানেই পুরান ঢাকা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রমজানজুড়ে ইফতারের ঐতিহ্য মানেই পুরান ঢাকা। রাজধানীর এ এলাকার চকবাজারের ইফতারির খ্যাতি আর ঐতিহ্যের কথা কারোরই অজানা নয়। রমজান উপলক্ষে প্রতিবারই জমে উঠে এ ইফতারের বাজার। রোজার শুরুতেই বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয় ঢাকার এ প্রাচীন ও ঐতিহ্যের স্থানটিতে, যা থাকে মাসজুড়ে।

সে ধারাবাহিকতায় এবারের রমজানেও সেজে উঠেছে পুরান ঢাকার চকবাজার। রমজানজুড়ে এখানে বসে রকমারি ইফতারের পসরা। পুরো রাজধানীর এমাথা-ওমাথা থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরের মানুষও আসেন এখান থেকে ইফতার কিনতে। বিশেষ করে বড় ‘বাপের পোলায় খায়’ এবং কাবাবের কথা এলেই চকবাজারের নাম আসে সবার আগে।

শুক্রবার (১০ মে) চকবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুপুর থেকেই দোকানিরা বৈচিত্র্যে ভরপুর লোভনীয় সব ইফতার সামগ্রী থরে থরে সাজিয়ে বসেছেন টেবিলে। বাহারি সেই ইফতার কিনতে ক্রেতাদেরও উপচেপড়া ভিড়।

দুপুরে ইফতার কিনতে এলে কথা হয় পুরান ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা আয়াজুর রহমানের সঙ্গে। বাহারি সব ইফতার হাতে নিয়ে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার প্রতি ঘরে ঘরেই রমজানে ইফতারি বানানোর রেওয়াজ আছে। তারপরও পুরান ঢাকার বাসিন্দারা সব সময় বাইরের খাবারের প্রতি বেশি আকর্ষণবোধ করেন। এজন্য বাহারি রকমের ইফতারির টান সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে পুরান ঢাকাবাসীর মধ্যে। তাই ঘরে তৈরির পাশাপাশি তারা বাজার থেকেও প্রচুর পরিমাণে ইফতার কিনে থাকেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রকমারি ইফতারির সাজে চকবাজার ইফতারিপাড়া অনেকটাই মোঘল ঐতিহ্যের ধারক। এখানকার ইফতারির মধ্যে উল্লেখযোগ্য আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটি কাবাব, টিকা কাবাব, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, সামি কাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতি কাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, সৌদি পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি শরবত, ইসবগুলের ভূষি, পুরি এবং ৩৬ উপকরণের মজাদার খাবার ‘বড়বাপের পোলায় খায়’সহ নানান পদ।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতার, পসরা সাজিয়ে বসে ক্রেতা আকর্ষণের চেষ্টাব্যবসায়ীরা জানান, বাহারি ইফতারের মধ্যে সুতি কাবাব কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, খাসির সুতি কাবাব ৮০০ থেকে ৮৫০, সামি কাবাব ৪০ থেকে ৫০, টিক্কা কাবাব ৩০ থেকে ৪০, চাপালি কাবাব প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০, মুরগির রোস্ট প্রতি পিস ১২০ থেকে ২৫০, আস্ত মুরগি মোসাল্লাম’র পিস ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এছাড়া দুধ ও পেস্তা বাদামের শরবত লিটার প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, লাবাং ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, ফালুদা বড় বক্স ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর জিলাপির আকার ভেদে কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং ঘিয়ে ভাজা জিলাপি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া টানা পরোটা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, খাসির মাংসের কিমা পরোটা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গরুর মাংসের কিমা পরোটা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ৫ থেকে ১০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ ও সামুচা। আর বড় বাপের পোলায় খায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। এছাড়া খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পুরান ঢাকার চকবাজার, সদরঘাট, বাবুবাজার, নবাবপুর রোড, কোর্ট-কাচারি এলাকা, ওয়ারি, চাঁনখারপুল, মিটফোর্ড, আরমানীটোলাসহ অন্যান্য প্রায় সব এলাকায় রমজান মাসে ইফতারির সমারোহ লক্ষ্য করা যায়। তাই এই রমজানে কিছুটা ভিন্ন স্বাদ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করতে একদিন ঘুরে আসা যেতে পারে পুরান ঢাকার দোকানগুলো থেকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments