ইতি ঘটলো ৬৩ বছরের মধুর বাঁধন, কাঁদছেন রওশন!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভালবাসার মানুষকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ছায়ার মত সব সময় তাকে আগলে রেখেছেন। হাসি-কান্না, মান-অভিমানে ভরপুর ছিল তাদের দাম্পত্য জীবনে। এক ছাদের নিচে থাকা না হলেও কখনোই আলগা হয়নি এ দম্পতির মধুর বাঁধন।

রাজনৈতিক জীবনের সহযোদ্ধা প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে কাঁদছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। এরশাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার প্রায় ৬৩ বছরের সংসার জীবন ইতি ঘটলো।

জীবনের শেষ দিনগুলোতেও বারবার ছুটেছেন স্বামীর দূয়ারে। কখনো শয্যাশায়ী স্বামীর পাশে ধর্মগ্রন্থ পড়েছেন, কখনো স্বামীর জীবন ভিক্ষা চেয়েছেন আল্লাহর কাছে।

রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন রোববার (১৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

সকালে ভালবাসার মানুষটি চলে যাওয়া সংবাদ পেয়ে স্থির থাকতে পারেননি। একমাত্র সন্তান রাহগীর আল মাহে সাদ এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই ছুটলেন নিজেদের আলাদা করতে। কিন্তু স্বামীর পাশে যেতেই স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়লেন। অধিক শোকে যেন পাথর হয়ে গেছেন। বন্ধ রেখেছেন নিজের মোবাইল ফোন।

৬৩ বছরের অম্ল-মধুর সম্পর্কের ইতি টেনে শূন্য হৃদয় নিয়ে গুলশানের বাড়িতে এখন স্তব্ধ-নির্বাক রওশন এরশাদ।

১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহের সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে রওশনকে বিয়ে করেন এরশাদ। চাকরির কারণে বিয়ের পরপরই সংসার করা হয়ে ওঠেনি। ওই সময় রওশন নিজের পড়াশোনার জন্য ময়মনসিংহে থেকেছেন। স্ত্রীর জন্য আকুল হৃদয়ে সেই সময় নিয়মিতই ‘ডেইজি’ সম্বোধন করে তাকে চিঠি লিখতেন এরশাদ।

দু’জনের সম্পর্ক ছিল মধুর। এরশাদের জীবন বাঁক নিলেও নিজের স্বামী অন্তঃপ্রাণ মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন রওশন। অনেকদিন আলাদা বসবাস করলেও নিয়মিত কথাবার্তা হতো দম্পতির। এরশাদের দুঃসময়েই পাশে ছিলেন। ফাটল থেকে রক্ষা করেছেন জাতীয় পার্টিকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments