ইউরোপ সেরার মুকুট লিভারপুলের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

মিনিটের কাটা তখন একবারও ঘুরে আসেনি। তার আগেই রেফারির পেনাল্টির বাঁশি। তা থেকে মোহাম্মাদ সালাহর নেওয়া সফল স্পট-কিক ও শেষ দিকে ডিভক ওরিগির গোলে স্বদেশি প্রতিপক্ষ টটেনহাম হটস্পারকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে লিভারপুল।

শনিবার রাতে মাদ্রিদের ওয়ান্দা মোত্রাপলিতানোয়ট শিরোপার লড়াইয়ে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দলকে ২-০ গোলে হারায় ইয়ুর্গুন ক্লপের শিষ্যরা। ইউরোপিয়ান শীর্ষ প্রতিযোগিতায় ‘অল রেড’ খ্যাত দলটির এটি ষষ্ঠ শিরোপা। ২০০৪-০৫ আসরে আগের শিরোপাটি জিতেছিল তারা। প্রতিযোগিতায় তাদের চেয়ে বেশি শিরোপা কেবল এসি মিলান (৭) ও রিয়াল মাদ্রিদের (১৩)। গত মৌসুমে ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হতে হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগের দলটিকে।

কোচিং ক্যারিয়ারে টানা ছয়টি ফাইনাল হারের পর শিরোপার স্বাদ পেলেন ক্লপ। এর আগে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল এই জার্মানকে। ২০১২ সালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ঘরোয়া ডাবল জেতার পর এই প্রথম কোনো শিরোপা জিতলেন তিনি।

লিভারপুলের হয়ে প্রথম শিরোপা জেতা ক্লপ ম্যাচ শেষে বলেন, ‘পেশাদার ক্যারিয়ারে এটা আমাদের সেরা রাত।’

এই প্রথম প্রতিযোগিতার ফাইনালে রেফারিকে কোনো কার্ড বের করতে হয়নি। ইনজুরি কাটিয়ে এদিন শুরুর একাদশে ফেরেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড ফিরমিনো ও টটেনহাম স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। পরে কেনের বদলি নামেন সেমিফাইনালের নায়ক লুকাস মৌরা।

ম্যাচের ২৬ সেকেন্ডের মাথায় পেনাল্টি পায় লিভারপুল। ডি বক্সের মধ্য থেকে সাদিও মানের উঁচু করে বাড়ানো বল মুসা সিসোকোর হাতে লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। বল স্পার্স মিডফিল্ডারের বুক স্পর্শ করে হাতে লাগলেও রেফারি ভিএআরের সহায়তা নেননি। তা থেকে ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলটি করেন সালাহ। একই সাথে প্রথম মিশরীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়েন সালাহ। প্রতিযোগিতায় চলতি আসরে এটি তার পঞ্চম গোল। ২০০৫ সালে লিভারপুলের বিপক্ষে এসি মিলানের হয়ে ৫১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেছিলেন পাওলো মালদিনি।

৩৮তম মিনিটে অ্যান্ড্রু রবার্টসনের দূরপাল্লার জোরালো শট বারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে রক্ষা করেন টটেনহাম গোলরক্ষক হুগো লরিস।

এছাড়া প্রথমার্ধে কোন দলই আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। এসময় বল দখলে টটেনহাম এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ পেরিয়ে পোস্টে কোনো শটই নিতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা ছিল গতিহীন। প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলা টটেনহামকে সমতায় ফেরাতে পারতেন সন হিউন মিন। ৭৯তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ডের নেয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক আলিসন। ওই আক্রমণেই সেমিফাইনালের হ্যাটট্রিক করা লুকাস মৌরার শট সহজেই দখলে নেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক।

শেষ দিকে বলের দখল রেখে চাপ বাড়ায় টটেনহাম। ৮৪তম মিনিটে ডি বক্সের বাম কর্নার ধেকে এরিকসনের নেওয়া ফ্রি-কিক বামে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন লরিস। মাচের যোগ করা পাঁচ মিনিটেও চাপ ধরে রাখে টটেনহাম, কিন্তু সাফল্য মেলেনি।

৮৭তম মিনিটে ডি বক্সের বাম প্রান্তে সতীর্থের বাড়ো বল পেয়ে কোনাকুনি শটে ব্যবধান বাড়ানো গোলটি করেন বদলি নামা বেলজিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড ওরিগি। গ্যালারিতে তখন লিভারপুলের শিরোপা জয়ের আনন্দ আর ডাগআউটে ক্লপের চোখেমুখে স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাস।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ১০ বারের বিজয়ী

২০১৮-১৯: লিভারপুল

২০১৭-১৮: রিয়াল মাদ্রিদ

২০১৬-১৭: রিয়াল মাদ্রিদ

২০১৫-১৬: রিয়াল মাদ্রিদ

২০১৪-১৫: বার্সেলোনা

২০১৩-১৪: রিয়াল মাদ্রিদ

২০১২-১৩: বায়ার্ন মিউনিখ

২০১১-১২: চেলসি

২০১০-১১: বার্সেলোনা

২০০৯-১০: ইন্টার মিলান

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box