ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রফতানিতে গতি কম

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রফতানির গতি কিছুটা কমে এসেছে। গত ছয় বছরের মধ্যে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে ইইউতে রফতানি প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইইউতে পোশাক রফতানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশেরও কম। আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) বেড়েছিল প্রায় ১১ শতাংশ।

গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের হিসাবেও ইইউতে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ শতাংশের বেশি। পরবর্তী সময়ে দৃশ্য বদলে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ইউরোপজুড়ে বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করেছেন উদ্যোক্তারা। বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল সমকালকে বলেন, শীতপ্রধান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েক মাস ধরে অতিরিক্ত গরম পড়েছে। এ কারণে তাদের পোশাক ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। মূলত এ কারণেই পোশাক রফতানি কমেছে ইউরোপে। তিনি জানান, প্রতিযোগী অন্যান্য দেশের রফতানি পরিস্থিতিও একই রকম। এ ছাড়া এক বছর বেশি হারের প্রবৃদ্ধির পরের বছরও আরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ইউরোপে আগের অর্থবছরে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই আগের বছরের তুলনায় পরের বছর প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ কারণে আগের বছরের ১১ শতাংশের ওপর সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল নামমাত্র। এ কারণে এ বছর বাজার একটু ভালো যাওয়ায় প্রবৃদ্ধি এত বেশি মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য মতে, সামগ্রিকভাবে গত অর্থবছরের সব পণ্যের গড় রফতানি বেড়েছে ১১ শতাংশ। তৈরি পোশাকের বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ইইউর ২৮ দেশে প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের নিচে। এ কারণে মোট পোশাক রফতানিতে ইইউর অংশ কমে এখন ৬২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যা ছিল ৬৪ শতাংশেরও বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৭৩ শতাংশ।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএ সূত্র মতে, গত অর্থবছরে ইইউর ২৮ দেশে দুই হাজার ১১৩ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৯৬৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২৮ দেশ মিলে এক বছরে রফতানি বেড়েছে মাত্র ১৫০

কোটি ডলার। যেখানে একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৭৮ কোটি ডলার।

ইইউর মধ্যে প্রধান দুই বাজার জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যে রফতানি প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় ইইউর সার্বিক রফতানিতে তার প্রভাব পড়েছে। এ সময় জার্মানিতে রফতানি বেড়েছে ৫ শতাংশেরও কম। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরে দেশটিতে রফতানি হয়েছে ৫৮৪ কোটি ডলারের পোশাক। ইইউর দ্বিতীয় প্রধান বাজার যুক্তরাজ্যেও রফতানি প্রবৃদ্ধি আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। এ সময়ে দেশটিতে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ শতাংশেরও কম। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে গত অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৩৮৬ কোটি ডলারের পোশাক। তবে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ইইউতে তৃতীয় প্রধান বাজার ফ্রান্সের অবস্থা অনেক ভালো। এ বাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। আগের বছর এ হার ছিল ৫ শতাংশেরও কম। দেশটিতে গত অর্থবছরে ১৮৫ কোটি ডলারের পোশাক গেছে বাংলাদেশ থেকে।

২০০১ সাল থেকে অস্ত্র ব্যতীত সব পণ্যে এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) কাঠামোর অধীনে ইইউর ২৮ দেশে রফতানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ। ২০১০ সাল থেকে উৎসবিধি দুই স্তর থেকে এক স্তরে নামিয়ে আনার ফলে রফতানিতে নতুন গতি আসে। অর্থাৎ যে কোনো দেশ থেকে আনা কাপড়ে উৎপাদিত পোশাকেও শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এর পরই ৫০ কোটি ক্রেতার বাজার ইইউতে পোশাক রফতানিতে বড় ধরনের গতি আসে।

ইউরোপে বাংলাদেশের ওভেনের (শার্ট, প্যান্ট) তুলনায় নিটের (গেঞ্জি জাতীয় পোশাক) চাহিদা বেশি। সমাপ্ত অর্থবছরে এক হাজার ১৯৬ কোটি ডলারের নিট পোশাক রফতানি হয়েছে। এ সময় ওভেনের রফতানির পরিমাণ ছিল ৯১৮ কোটি ডলার।

আস/এসআইসু

Facebook Comments