আলোর সাজে বর্ণিল আওয়ামী লীগ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীজুড়ে আন্দোলন-সংগ্রাম, অর্জন-সাফল্যের বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন দলটি এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মৃতিবিজড়িত পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন হয়ে নবাবপুর রোড, নবাবপুর রোড থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীজুড়ে আলোকসজ্জা ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে এক অনন্য মাত্রায় সেজে উঠেছে।

দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনসহ রাজধানীজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জাসহ প্রধান প্রধান সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে সজ্জ্বিত করা হবে বলে দলের নেতারা জানিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এসব কর্মসূচি সফল করার জন্য দলের নেতারা ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ নিজেদের মধ্যে কয়েক দফায় বৈঠকে অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মেয়রদের সাথে যৌথসভা অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ নেতারা।
বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের আইল্যান্ড, রাস্তার দুইপাশ, লাইট পোস্টে রঙিন আলোকসজ্জা করা হয়েছে। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সাজসজ্জার বিষয়গুলো তদারকি করছেন। রাস্তার দুই পাশে ঢাউস আকারের ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছবি স্থান পেয়েছে।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে লড়াই সংগ্রামের অনবদ্য কাণ্ডারি জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকসহ জাতীয় চার নেতার ছবি ঠাঁই পেয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে সোনালি অর্জন-সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ছবি এবং ছোট ছোট উন্নয়ন স্লোগান সংযুক্ত করা হয়েছে।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে ছবি ব্যবহারে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয় দলের পক্ষ থেকে। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সজ্জায় বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু এবং সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সেই প্রতিষ্ঠালগ্নের নেতারাসহ জাতীয় চার নেতার ছবিই স্থান পেয়েছে।

এর আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকন বলেন, ‘আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা প্রাণখুলে মন ভরে উৎসবের আমেজে মেতে উঠব। আমরা আনন্দের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জন্মদিন পালন করবো। আমাদের প্রচার-প্রচারণায় সমস্ত কিছুতে যেন দৃষ্টিকটু কিছু না হয়। কারণ আমরা দেখি, আমাদের প্রচার-প্রচারণায় যে সমস্ত ব্যানার ফেস্টুন ব্যবহার করে থাকি, সেখানে আমাদের নিজেদের ছবি বিশাল করে দেওয়া থাকে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছবি অত্যন্ত ছোট থাকে। আমাদের নেত্রীর ছবি ছোট থাকে। এটা শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটা আমাদের নেতৃত্বের প্রতি অবমাননা। আমরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সুশৃঙ্খলভাবে পালন করার মধ্য দিয়ে এ শহরের জনগণ এবং দেশবাসীকে জানাতে চাই, আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটা সুশৃঙ্খল দল এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন একটি দল।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজম বলেন, ‘মাননীয় নেত্রীর নির্দেশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অত্যন্ত জাঁকজমকপূণ করতে হবে। মানুষ যেন উপলব্ধি করতে পারে, এটা আওয়ামী লীগের জন্মদিন। আওয়ামী লীগের জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের সংগঠনের সর্বোচ্চ যে শৃঙ্খলা সেটা কিন্তু মানুষকে আমাদের জানাতে হবে, আওয়ামী লীগ একটা সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে একটা নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং একটা সিডি দেওয়া আছে। এই সিডির ছবিগুলো সুন্দরকরে বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ড, রাস্তার দুই পাশ, লাইট পোস্টে সংযোজন করতে হবে। রাজধানীর ভিআইপি রোডগুলোতে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যবস্থা নেবেন।’

মির্জা আজম আরও বলেন, ‘আমরা মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রত্যেকটি বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন যেটিই টাঙাই না কেন তার মধ্যে যাতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু এবং সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই ছবিগুলোর বাইরে আমাদের কোনো দলীয় নেতাকর্মীর ছবি যাতে সেটাতে সংযোজন না করি। আর যারা এটা নির্মাণ করবেন, তৈরি করবো, যারা অর্থ ব্যয় করবেন, নিজের নাম-পদবি লিখে দেবেন, যাতে আমরা বুঝতে পারি, এটা তিনি করেছেন।’

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির তুলে ধরে বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থাপনা যা আওয়ামী লীগের অতীত ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। এছাড়া এগুলোকে আলোকসজ্জিত করা হবে।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মহান মুক্তযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বদানকারী দলটি এবার ৭১ বছরে পদাপর্ণ করতে যাচ্ছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জননেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

জন্মলগ্নে এই দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। জন্মলগ্ন থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, শোষণমুক্ত সাম্যের সমাজ নির্মাণের আদর্শ এবং একটি উন্নত সমৃদ্ধ আধুনিক, প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শনের ভিত্তি রচনা করে আওয়ামী লীগ। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’ নামকরণ করা হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box