আলোচনায় তামিমের স্ট্রাইক রেট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল। ২১ সেঞ্চুরির মালিক এই বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাট চলমান বিশ্বকাপে প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারছে না। পাঁচ ম্যাচে একটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ১৬৯ রান করেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের রান পাওয়া, না পাওয়ার চেয়ে ওয়ানডেতে তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে উচ্চকিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। ফিসফাস বলুন, অস্ফুট স্বরে আলোচনা বলুন—তামিমের স্ট্রাইক রেট কেন্দ্রিক আলোচনা এখন সর্বত্র।

ওয়ানডেতে ১৯৮ ম্যাচে ৩৬.১৯ গড়ে ১১ সেঞ্চুরিসহ ৬ হাজার ৮০৫ রান করেছেন তামিম। যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ৭৮.০৫। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আসলে এমন স্ট্রাইক রেটেই ব্যাট করছেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে সাকিব ৮২.৭৬, মুশফিক ৭৮.৬৩, মাহমুদউল্লাহ ৭৬.৮১, লিটন দাস ৮৮.৩৫, সৌম্য সরকার ১০০.৮৩ স্ট্রাইক রেটে ওয়ানডেতে রান করেছেন (গতকাল পর্যন্ত)। সেদিক থেকে সতীর্থদের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই তামিম।

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যাটিং কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, তামিমের স্ট্রাইক রেট নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। বরং বিশ্বকাপে তার ব্যাটে বড় রান আসছে না সেটাই চিন্তার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশের প্রথম টি-২০ ম্যাচের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা বেশি স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাট করায় তামিমের বিষয়টা চোখে পড়ছে সবার। বিশ্বকাপে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

তামিমের ক্যারিয়ারকে দুইভাগে ভাগ করলেও দেখা যায় তার স্ট্রাইক রেটে বড় হেরফের হয়নি। ২০০৭ সালে অভিষেকের পর থেকে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত (বিশ্বকাপ পর্যন্ত) ১৪১ ওয়ানডেতে ৪ হাজার ১২৫ রান করেছেন তিনি ২৯.৬৭ গড়ে। যেখানে ছিল ৪ সেঞ্চুরি এবং স্ট্রাইক রেট ৭৭.৪৯।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ওপেনার তামিমের ব্যাটিংয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানদের মতোই দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় রান করেছেন তিনি। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৫৭ ওয়ানডেতে ২ হাজার ৬৮০ রান করেছেন তিনি ৫৪.৬৯ গড়ে, স্ট্রাইক রেট ৭৮.৯৩ রান। সঙ্গে আছে ৭ সেঞ্চুরি। বলা বাহুল্য তার এই সাত সেঞ্চুরির ছয়টিতেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।

এই সাত ইনিংসে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে যথাক্রমে ১১২, ১০৮, ১১০, ১২৭, ১২৪, ১৪৬, ১২০ বল লেগেছে তামিমের। চলতি বিশ্বকাপের আগেও সংবাদমাধ্যমে এই বাঁহাতি ওপেনার বলেছিলেন, দল তাকে একটা ভূমিকা দিয়েছে। যেখানে লম্বা ইনিংস খেলা, ইনিংসের সিংহভাগ একপ্রান্ত ধরে খেলার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এবং তাই বেশ রয়ে-সয়ে শুরু করতে হচ্ছে তাকে।

২০১৫ বিশ্বকাপ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সিনিয়র তিন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা তামিমের চেয়ে কম রান করেছেন। তবে তাদের স্ট্রাইক রেট অবশ্য তার চেয়ে বেশি। এই সময়টাতে মুশফিক ৮৭.৮২, সাকিব ৮৯.৩৩, মাহমুদউল্লাহ ৮২.০৬ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছেন।

মুশফিক-তামিমদের ব্যাটিং গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে আসলে তামিম এখনও সেভাবে ব্যাটিং করতেই পারেনি। যেটা স্বাভাবিকভাবে হয়, তামিম দেখেশুনে ধীরে শুরু করে। তারপর সেট হয়ে ও রান করে। ওর রান রেট নিয়ে আলোচনার অবকাশ আমি দেখি না। আমাদের দলের কৌশল ও যাতে উইকেটটা না দেয়। ওর স্ট্রাইক রেট নিয়ে চিন্তার কিছু নাই। ও ভালো ফর্মে নাই, সেটা নিয়ে চিন্তা করতে পারে সবাই।’

সৌম্য-মুশফিকরা বেশি স্ট্রাইক রেটে খেলায় তামিমকে স্লো মনে হচ্ছে। শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, ‘তামিম বরাবরই কিন্তু এভাবে খেলে আসছে। আমার কাছে মনে হয় তামিমের খেলা পরিবর্তন হয় নাই, কিন্তু আশপাশের খেলাটা পরিবর্তন হয়েছে। সৌম্য, সাকিব, মুশফিক, লিটন দাস বেশি স্ট্রাইক রেট নিয়ে খেলছে। এ কারণে মনে হচ্ছে তামিম স্লো খেলছে। অন্যরা ভালো করায় ওকে নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা হচ্ছে। তবে আমি মনে করি, এটা নিয়ে কথা বলার দরকার নেই।’

১ এপ্রিল, ২০১৫ থেকে বাংলাদেশের ব্যাটিং চতুষ্টয়ের পারফরম্যান্স

তামিম ইকবাল

৫৭ ম্যাচ ২৬৮০ রান, ৫৪.৬৯ গড়,

স্ট্রাইক রেট ৭৮.৯৩, ৭ সেঞ্চুরি

সাকিব আল হাসান

৫৬ ম্যাচ ১৯৬৯ রান, ৪৪.৭৫ গড়,

স্ট্রাইক রেট ৮৯.৩৩, ৩ সেঞ্চুরি

মুশফিকুর রহিম

৬৪ ম্যাচ ২৩৫১ রান, ৪৮.৯৭ গড়,

স্ট্রাইক রেট ৮৭.৮২, ৫ সেঞ্চুরি

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

৬৪ ম্যাচ ১৪৩২ রান, ৩৪.০৯ গড়,

স্ট্রাইক রেট ৮২.০৬, ১ সেঞ্চুরি

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box