আমার কিছু স্বপ্ন আছে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পুরো নাম দিলারা হানিফ রিতা। দর্শকদের কাছে তিনি পূর্ণিমা। নামের মতোই মিষ্টি এই নায়িকা। বর্তমানে কোনো কাজ না থাকলেও মিডিয়া এবং দর্শকমহলে এখনও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছেন তিনি। চাঁদমুখখ্যাত এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা হলো ঈদ এবং ঈদ-পরবর্তী কাজ-কর্ম নিয়ে। সে সঙ্গে জানালেন দীর্ঘদিন ধরে বুকের মাঝে জমিয়ে রাখা কয়েকটি পরিকল্পনার কথাও। যদিও এখনই কোনো বিষয়েই বিস্তারিত বলতে রাজি হননি, তবে সময় সুযোগ বুঝে সবাইকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জানান দেবেন তিনি।

তারার মেলা : এবারের বৃষ্টিস্নাত ঈদ কেমন কাটলো?

পূর্ণিমা : পরিবারের সবাইকে নিয়ে চমৎকারভাবে এবারের ঈদ উদযাপন করেছি। বৃষ্টি ছিল, তবে ঈদ আনন্দকে ম্স্নান করে দেয়নি। আমি তৃপ্তি নিয়েই উপভোগ করেছি।

তারার মেলা : ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন কবে?

পূর্ণিমা : এবারের ছুটিটা বেশ দীর্ঘ (হাসি)। কারণ রমজানের শুরু থেকেই কাজ করিনি। ঈদের পরেও বেশ কয়েকটা দিন কাজের শিডিউল রাখিনি। তাই ছুটিটা দীর্ঘই বলা চলে। এ সময়টাতে ঘর-সংসার নিয়েই আছি।

তারার মেলা : এবারের ঈদে তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। দেখার সুযোগ হয়েছে কী?

পূর্ণিমা : সত্যি বলতে, হলে গিয়ে চলচ্চিত্রগুলো দেখার ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও দেখতে পারিনি। এ ক’টা দিন স্বামী-সন্তান নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। তবে সময় পেলে দেখতে যাব নিশ্চয়ই।

তারার মেলা : একটা সময় ঈদ এলেই মুক্তি পেতো পূর্ণিমার নতুন ছবি। পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে থাকতো পাড়ার ওলি-গলি। দীর্ঘদিন ধরেই সে সবের দেখা নেই। মনে পড়ে অতীতের দিনগুলি?

পূর্ণিমা : মনে পড়বে না কেন? অবশ্যই মনে পড়ে। একটা সময় দিন-রাত এক করে শুটিং করেছি। সারা বছরই টার্গেট থাকত ঈদ স্পেশাল নিয়ে। তখনও বছরের যে কোনো সময়ই ছবি মুক্তি পেতো। তবে ঈদের সময় সংখ্যাটা ছিল বেশি। প্রতিযোগিতা হতো, ঈদে কার ছবি কত ভালো করতে পারবে? ফলে অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করত। সে সব এখন অতীত। এখনতো এ দুনিয়া থেকে অনেকটাই সরে এসেছি। এটাই বাস্তবতা। মাঝে মাঝে এসব কথা মনে হলে খারাপ লাগে। তবে বাস্তবতা তো মেনে নিতেই হবে।

তারার মেলা : এবার অন্য প্রসঙ্গ। অনেক দিন ধরেই উপস্থাপনায় বেশ সরব। স্বেচ্ছায় এলেন- নাকি বাধ্য হয়ে?

পূর্ণিমা : এ বিষয়ে একটু সময় নিয়েই বলতে চাই- হঠাৎ করেই ক’য়েক বছর আগে মেরিল-প্রথম আলো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করি। সে সময় আমার উপস্থাপনা সবার মনে পড়ে। দেশব্যাপী বেশ আলোচিতও হয়। রীতিমত প্রশংসার জোয়ারে ভাসছি তখন। এরপর থেকেই আমার প্রতি সবার ধারণা জন্মে, উপস্থাপিকা হিসেবে ভালো করব। একটা সময় আমারও বিশ্বাস হতে থাকে, উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে মানুষকে আনন্দও দেয়া যায়। একের পর এক উপস্থাপনার প্রস্তাব আসা শুরু করে। তার

মধ্যে যে সব অনুষ্ঠান আমার ভালো লাগছে, সে সব করছি। এরপরেও উপস্থাপকদের কিছু সংগঠন আমাকে পছন্দ করছে না। তাদের দাবি, অভিনয় শিল্পী হয়ে আমি কেন উপস্থপনা করব?

তারার মেলা : প্রথম উপস্থাপনায়-ই বাজিমাত?

পূর্ণিমা : না, না…। তার আগেও উপস্থাপনা কারার সুযোগ হয়েছিল। নায়ক রাজ রাজ্জাক আঙ্কেল ও গাজী মাজহারুল আনোয়ার ভাইকে নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সে অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল আমাকে। এদিকে, রাজ্জাক আঙ্কেল ও আনোয়ার ভাইকে দেখে আমার অবস্থা খারাপ। মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছে না। কিসের আবার উপস্থাপনা? তারপরেও সবার সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সে দিনকার উপস্থাপনা ঠিকভাবেই করেছিলাম।

তারার মেলা : এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে?

পূর্ণিমা : ব্যস্ততার শেষ নেই। বিভিন্ন কাজেই ব্যস্ত থাকতে হয়। সম্প্রতি বেশ কিছু অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছি। তার মধ্যে আর টিভির ‘এবং পূর্ণিমা’সহ আরো দু’টি টেলিভিশনে উপস্থাপনা করছি। এ ছাড়া আমি যেহেতু স্টেজ শো’ করি, সেখানেও সময় দিতে হয়। এদানীং করপোরেট অনুষ্ঠানেও উপস্থাপনা করতে হচ্ছে। সব মিলে নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে নয়, অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আমাকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

তারার মেলা : নতুন কিছু?

পূর্ণিমা : আমার কিছু স্বপ্ন আছে। সেই স্বপ্নেরই বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনের বছর সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারি। যদি সরকারি অনুদান পেয়ে যাই, তবে একদম নতুন

ভাবে ভিন্ন কিছু নিয়েই হাজির হব। শুধু এতটুকুই বলতে চাই, সেখানে যে পূর্ণিমাকে দেখা যাবে, দর্শক আগে এমনটি দেখেনি। ততদিন পর্যন্ত না হয় সবাই অপেক্ষায়ই থাকুক। নতুন কিছুর জন্য অপেক্ষা, মন্দ নয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box