আমরা কেউ হাতে চুড়ি পরে বসে নেই‍‍ : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সদ্য সমাপ্ত ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন থেকেই তৃণমূল-বিজেপি দ্বন্দ্ব একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষত এই নির্বাচনে গেরুয়া বাহিনীর উত্থানের মধ্যদিয়ে সেটি একেবারে লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এই জেরে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির জল্পনা সম্পর্কে মঙ্গলবার (১১ জুন) কড়া মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আঘাত করলে সে আঘাত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মমতার কথায়, ‘অত সস্তা নয়। বলা খুব সহজ। আগে নিজেদের দলকে (বিজেপি) নিয়ন্ত্রণ করুক। আমরা কেউ হাতে চুড়ি পরে বসে নেই।’

বুধবার (১২ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদের নির্বাচন পরবর্তী অবিরাম সহিংসতায় রাজ্যটির আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছেই। এবার তা শুরু হল নবান্ন এবং রাজভবনের মধ্যে। রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু নিয়ে রাজ্যের গভর্ণর কেশরীনাথ ত্রিপাঠির দেয়া তথ্যকে আগেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে এ নিয়ে পাল্টা তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজ্যপালকে সম্মান করি। কিন্তু তার রাজনৈতিক ভাষণকে নয়।’ তার কথায়, ‘আমি রাজ্যপাল সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না। রাজ্যপালও মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন না। প্রত্যেকেরই সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

সোমবারই একটি সংবাদ মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন, নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় রাজ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রিপোর্ট দিয়েছেন তিনি। হেয়ার স্কুলে বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘১০ জন খুন হয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন ১২ জন। তাহলে কি টার্গেট করে সেই সংখ্যা পূরণ করবে?’ তার দাবি, রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু নিয়ে রাজ্যপাল সঠিক তথ্য দেননি।

এদিন ইএম বাইপাসের ধারে একটি হোটেলের অনুষ্ঠানে গিয়েও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব ছিলেন মমতা। সেখানে তিনি বলেন, ‘গত ৮ বছরে রাজ্য আমূল বদলে গিয়েছে। কিন্তু একদল মানুষ রাজ্যের বদনাম করতে আইনশৃঙ্খলা অবস্থা খারাপ বলে প্রচার করছে। এটা রাজনৈতিক প্রচার। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা শান্তির বিচারে অন্য যে কোনও রাজ্যের থেকে বাংলা ভাল।’

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কী তা সকলে জানে। এখনও সেই অবস্থা চলছে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box