আবাসন খাতে সুখবর

আলোকিত সকাল ডেস্ক

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিভিন্ন ধরনের ফি কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ ও জমির ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ নিবন্ধন ফি রয়েছে। এটা কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, দেশের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এ খাত বিকশিত না হওয়ার অন্যতম কারণ স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। এর ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। এসব ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে একদিকে আবাসন খাতের সম্প্রসারণ হবে, অন্যদিকে রাজস্ব আয়ও বাড়বে। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতাও কমবে।

এ প্রসঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত হোসেন সমকালকে বলেন, জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের উচ্চ ফির কারণে অনেকে ফ্ল্যাট-জমি কেনার পর রেজিস্ট্রেশন করতে বিপাকে পড়েন। এমন অনেক ফ্ল্যাট রয়েছে, যা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবহার হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ফিসহ নানাবিধ ফি কমানোর ফলে সরকারের কোষাগারে বাড়তি অর্থ আসবে। এতে সাধারণ ক্রেতারাও আগ্রহী হবেন। রিয়েল এস্টেট খাতের মন্দাও কাটতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর। এবার বাজেটে রেজিস্ট্রেশন ফি বিদ্যমান ফির অর্ধেক করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কালো টাকা সাদা করারও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘সবার জন্য আবাসন, কেউ থাকবে না গৃহহীন’- প্রধানমন্ত্রীর এ স্লোগান সামনে রেখে পরিকল্পিত নগরায়ণে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ঢাকার পূর্বাচলে পিপিপি (প্রাইভেট-পাবলিক-পার্টনারশিপ) ভিত্তিতে ৬০ হাজার

ফ্ল্যাট নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তা ছাড়া তুরাগ নদের বন্যাপ্রবাহ অঞ্চলের ৯ হাজার ১২৫ একর এলাকায় ৬২ শতাংশ জায়গা জলাধার হিসেবে সংরক্ষিত রেখে অবশিষ্ট এলাকায় কমপ্যাক্ট টাউনশিপ নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box