আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ওপর লাঠিচার্জ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন চিকিৎসক আহত হয়েছেন।

নিয়োগে অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে চিকিৎসকরা গত ২০ মার্চের পর থেকে এ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিল। পাশাপাশি সভা-সমাবেশসহ আন্দোলন করে আসছিল। ঈদের ছুটি শেষে রোববার (৯ জুন) সরকারি অফিস-আদালত খুললে চিকিৎসকরা পুনরায় আন্দোলন শুরু করে।

সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে চিকিৎসকরা আন্দোলন শুরু করে। তারা ভিসি ও পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এরপরই তারা বি এবং সি ব্লকের সামনে প্রবেশপথ অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও সমাবেশ করেন।

দুপুরে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে চিকিৎসকরা ভিসির কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রবেশপথে অবস্থান নেন চিকিৎসকরা। এ সময় আনসার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনরত চিকিৎসকদের রাস্তা বন্ধ না করার জন্য অনুরোধ জানান। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি থেকে মারধর শুরু হয়। এ সময় পুলিশ ও আনসার আন্দোলনরতদের ওপর লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়।

হাসপাতাল কর্মচারী জিয়াউল ইসলাম জানান, ঈদের ছুটির পর রোববার সকাল ১১টার দিকে স্যাররা (আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা) আগামীকাল ১০ জুন (সোমবার) থেকে অনুষ্ঠিতব্য মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন। স্যাররা নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল চান এবং আবারও পরীক্ষা নেয়ার দাবি করেন। এ সময় তারা ভিসি স্যারের কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন।

শাহবাগ থানা পুলিশ বলেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে রেজিস্টারের কক্ষের সামনে থেকে পেট্রলবোমা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাকে বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের নাশকতা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। ১০ জুন অনুষ্ঠিতব্য চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা বানচালের অপচেষ্টা হতে পারে আশঙ্কা করে তিনি।

এ ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহত চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, আমরা শুধু ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি আনসার ব্যবহার করে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছেন।

গত ২০ মার্চ বিএসএসএমইউতে ২০০ ডাক্তার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হয়। ১৮০ জন মেডিকেল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিৎসক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ১ পদের জন্য ৪ জন পাস করে। এ হিসাবে ৭১৯ জন মেডিকেল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চূড়ান্ত নিয়োগের লক্ষ্যে তাদের ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box