আনোয়ারায় হাতির আক্রমনে শিশু আহত, আতঙ্কে এলাকাবাসী, ভয়ে কাটাচ্ছে রাত

কোরবান আলী টিটু, আনোয়ারা প্রতিনিধি

বন্য হাতির আক্রমনে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক গ্রামে আমুর পাড়া এলাকায় এক শিশু আহত হয়েছে। আহত মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম (১০) গুয়াপঞ্চক গ্রামের মোহাম্মদ জেবল হোসেনের পুত্র। আহত শিশুকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

শুক্রবার রাত আটটায় বাড়ি সামনে হাতি দেখতে পেয়ে ভয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাতির আক্রমনে তলপেটে গুরুত্বভাবে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে কেইপিজেড ও দেয়াঙ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছে হাতি। দিন দুপুর বা সন্ধ্যা নামলেই সড়কে ও লোকালয়ে চলে আসে। এই কারণে কেইপিজেডের দায়িত্বরত শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা প্রহরী ও আশপাশের এলাকাবাসীরদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিভিন্ন গাছপালা ও স্থাপনা ভেঙে ক্ষতি করেছে প্রতিদিনই। এর আগে গত বছরের ১৩ জুলাই আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের আবদুর রহমান (৭০) নামের একজনকে মেরে ফেলে হাতি, আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। এছাড়া মানুষের ঘরবাড়ি, গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি করছে। এদিকে বন্য হাতির আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) জানায়, বর্তমানে ২৩টি কারখানায় আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও আশপাশের এলাকার প্রায় সাড়ে ২২ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে আশপাশের অনেকে হেঁটে কারখানায় যান। শ্রমিকেরা হেঁটে যানবাহনে ওঠেন। কিন্তু দেয়াঙ পাহাড়ে হাতি অবস্থান নেওয়ায় শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মীরা আতস্কে রয়েছেন। গত কয়েক মাসে হাতি কেইপিজেডের বনায়ন করা বড়-বড় নারকেল গাছসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছপালা ও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলায় অন্তত ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় মোহাম্মদ আবছার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেয়াং পাহাড় থেকে আসা বন্য হাতি গুলো রাতে নেমে আসে লোকালয়ে। ক্ষতি করছে এলাকার মানুষের ঘর বাড়িসহ ফসল। সন্ধ্যার পরই বন্য হাতির দল বিভিন্ন এলাকায় তান্ডব শুরু করে। এমনকি হাতির আক্রমনে বৈরাগ ইউনিয়নে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন কয়েক মাস আগেই। আজকে আবার আমাদের গ্রামের এক শিশুকে আক্রমন করে গুরুত্বভাবে আহত করে। হাতি গুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ প্রশাসনকে নেয়া প্রয়োজন।

বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, হাতি গুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বন্য প্রাণী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বৈরাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, হাতি গুলোর বিষয়ে বন বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণের এখনো কোন প্রকার সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। আমি উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box