আতঙ্কে অভিভাবকরাও

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেক উদ্বেগজনক। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের অভিভাবকরা। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পরিচ্ছন্নতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেঙ্গু রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অনেক স্কুলে মশার অত্যাচারে কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগেই মশা মারার ওষুধ কিনে তা স্কুলে দিচ্ছেন। তবে এতে করে মশা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না অভিভাবকরা।

তারা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন যেভাবে ওষুধ ছিটাচ্ছেন তাতে মশা মরবে না। অনেকেই অভিযোগ করে বলছেন, সপ্তাহে একবার ওষুধ ছিটাতে আসে আবার কোনো কোনো সপ্তাহে আসে না। এখন ডেঙ্গু যে ভয়াবহতা আকার ধারণ করেছে তাতে সিটি কর্পোরেশনের আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, স্কাউট ও রোভার লিডারদের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা। এছাড়াও ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা নিধনে ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মশা মারার স্প্রে বিতরণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ও ভবনগুলো নিয়মিত পরিস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি স্কুলের ভিতরে পরিস্কার অভিযান চালানোর কিছু স্থির চিত্র দেখা গেছে। এছাড়াও নগরীর সুরিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে মশা মারার ওষুধ ছিটাতেও দেখা গেছে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত ৬৭ নং ওয়ার্ডের ফার্মের মোড় ডেমরা এলাকার বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। এখানে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা আমার সংবাদকে বলেন, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ি স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে অ্যাওয়ারনেস সেমিনার করেছি।

এছাড়াও স্কুলের ভিতরে এবং আশপাশের রাস্তা ও বাসার ছাদ পরিস্কারে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ করেছে। তারা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে। প্রিন্সিপাল আরও বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের জ্বর হয়েছিলো আমরা তাকে ছুটি দিয়েছি।

সামসুল হক খান স্কুলের একজন অভিভাবকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর কারণে আতংকের মধ্যেই আছি। তার মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষা চলছে এই জন্য নিয়ে আসতে হচ্ছে।

রাজধানীর আরেক বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির তিনটি শাখা মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার।

ডেঙ্গুর সচেতনতা বিষয়ে অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে স্কুলে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। স্কুলে স্কাউট সমাবেশের মাধ্যমে আশপাশে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সিটি করর্পোরেশন থেকে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. আবদুল মান্নান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ি কাজ যথাযত ভাবে হচ্ছে কিনা আমরা তা মনিটরিং করছি। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।

এটা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা একসাথে করে থাকেন। যেহেতু এখন সংকটময় মুহূর্ত সে জন্য সকল জেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments