আইনজীবী না পাওয়ায় যা বললেন শাহদীন মালিক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিন মঞ্জুর করেন। এ সময় মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি। এ কারণে সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেন বিচারক।

বৃহস্পতিকার সন্ধ্যায় এ বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, দু-একজন আইনজীবী ব্যক্তিগত কারণে বা বিভিন্ন বিবেচনায় মামলা নাও নিতে পারেন। কিন্তু সবাই মিলে যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, মিন্নির পক্ষে দাঁড়াবেন না, তাহলে এটা আইনজীবীদের পেশাগত আচরণ বিরোধী।

‘এ ধরনের যদি কোনো দলগত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে মিন্নির বাবা বা মিন্নি বার কাউন্সিলে অভিযোগ করলে আইজীবীদের সনদ বাতিল হতে পারে।’

তিনি বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তের সাথে পরামর্শ এবং আইনি সহায়তা লাভ-এটা প্রত্যেক ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। এটা সংবিধানে ৩৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে। অতএব মিন্নি যদি আইনজীবীর কাছে আইনি সহায়তা না পায়, তাহলে তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে।

এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেনও বলছেন, আমি তিনজন আইনজীবী (অ্যাডভোকেট জিয়া উদ্দিন, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার নাসির ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের) সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তাদের দাঁড়ানোর কথা ছিলো, আমার মনে হয় প্রতিপক্ষদের ভয়ে তারা আমার মেয়ের পক্ষে দাঁড়াননি।

শাহদীন মালিক বলেন, কারও চাপে ভয় পেয়ে যদি আইনজীবীরা না দাঁড়ান, এটা তো বিরাট অপরাধ। এরকম যদি কোনো অভিযোগ আসে, তবে পুলিশের উচিত হবে এটা খতিয়ে দেখা, তদন্ত করা। যে কারও চাপে বা বাধার কারণে যে আইনজীবীরা বিরত থাকছেন, এটাতো ফৌজদারি অপরাধ। তখন মিন্নির বাবা গিয়ে পুলিশের কাছে এফআইআর করতে পারে যে, অমুকের চাপের কারণে আমি কোনো আইনজীবী পাচ্ছি না। তখন এমপি হোক, মিনিস্টার হোক পুলিশের দায়িত্ব হবে তদন্ত করা।

এদিকে স্বামী রিফাত শরীফকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা রিমান্ডে থাকা মিন্নি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments