অভিযোগের প্রমাণ পেয়ছে, জবাব দিতে ডাকা হয়েছে সাবেক ডিসি সুলতানাকে

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনকে শুনানির জন্য ডেকেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত নতুন তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অপরাধে’ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে এবং মোবাইল কোর্ট বসিয়ে মিথ্যা অভিযোগে সাজা দেওয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, এর সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির জন্য ডাকা হবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত নতুন তদন্ত কমিটির প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলী কদর।

তিনি জানিয়েছেন, ‘কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হচ্ছে মন্ত্রণালয়। তাই মঙ্গলবারের শুনানিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ উপস্থাপন করা হবে। অপরদিকে অভিযুক্ত সুলতানা পারভীন তার পক্ষে কমিটির সামনে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। এটি একটি লম্বা প্রক্রিয়া। বেশ কিছু দিন সময় লাগবে। অভিযুক্ত সুলতানা তার বক্তব্য মৌখিকভাবে বা চাইলে লিখিত আকারেও দিতে পারবেন।’

আবার কেন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হলো- এমন এক প্রশ্নের জবাবে নতুন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, ‘এটি নতুন কিছু নয়। এটিও একটি বিধান। প্রথম যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, সেটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করার জন্য। ওই তদন্তে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যখন পুরো বিষয় পর্যালোচনা করে বিভাগীয় মামলাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চালিয়ে নেওয়ার মতো গুরুত্ব মনে করেছে, সে কারণেই পরবর্তী সময় ডিটেইল তদন্তের জন্য আরেকটি তদন্ত কমিটি করার বিধান রয়েছে। বিভাগীয় মামলার ক্ষেত্রে এমনটিই হয়।’

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সুলতানা পারভীনকে কারণ দর্শানোর যে নোটিশ দেওয়া হয়, তার জবাবে তিনি যা বলেছেন তা সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. আলী কদরকে প্রধান করে নতুন এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আহসান কবীর ও আমেনা বেগম।

অপরদিকে একই অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ তদন্তের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আমেনা বেগমকে প্রধান, উপসচিব পি কে এম এনামুল করীম ও মোহাম্মদ কামাল হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শুরু করার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ করে সুস্পষ্ট মতামতসহ দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কমিটির সদস্যদের কাছে অভিযোগনামা, অভিযোগ বিবরণী ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পাঠিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত নতুন তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনও সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। শুধু ‘অবিলম্বে’ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর আরডিসি নাজিম উদ্দিনের তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কাজ শুরু করে দুই মাস সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি উপসচিব সুলতানা পারভীনের সঙ্গে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে তার বাড়িতে ঢুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিসি অফিসে নিয়ে তাকে শরীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ঘটনা ফলাও করে প্রচার হলে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ দুই সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এদিকে আরডিসি নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতে তিনি যেসব স্থানে চাকরি করেছেন সেসব স্থানে তার কর্মকাণ্ড প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে -এমন অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box