অবহেলিত নার্গিসের জন্মভূমি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি সরকারিভাবে নিলেও নার্গিসের জন্মভ‚মি ও কবিতীর্থ কুমিল্লার দৌলতপুর আজও চরম অবহেলিত। অনেকেই বিগতদিনে দৌলতপুরে কবির নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতির ফুল ফুটিয়েছেন। বাস্তবে স্থানটির কোন পরিবর্তনের বিন্দুমাত্র ছোঁয়া নেই বলে স্থানীয়দের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, ১৯২১ সালে আলী আকবর খান আর কবি নজরুল কলকাতায় পাশাপাশি থাকতেন। আলী আকবর খান কবি নজরুলকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার দৌলতপুরে নিয়ে আসেন। বেড়াতে এসে আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে সৈয়দা আসার খানমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় কবির।

গভীর ভালোবাসায় আচ্ছন্ন হয়ে ইরানি এক সাদা গুল্মপুষ্পের নামে কবি তার নাম দিলেন নার্গিস।

কবি দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো বেদনা-অভিমান, অবেলা, অনাদৃতা, পথিক প্রিয়া, বিদায় বেলা প্রভৃতি। দীর্ঘ দু’মাসের আবেগঘন প্রেমের পর নার্গিসের সাথে পরিণয়ের রাতেই এক অভিমানে কবি তাকে ত্যাগ করে চলে যান। তবে কবির মানসলোকে নার্গিস ছিলেন দীর্ঘকাল।

১৯৩৭ সালে কলকাতার চিৎপুর থেকে কবি নার্গিসকে উদ্ধেশ্য করে লিখেছিলেন, তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করিনা এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি। আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না। যার পরম পরশে কবি অগ্নিবীণা বাজিয়েছেন সেই নাগির্সের জন্মভূমি ও কবিতীর্থ ক্ষেত দৌলতপুর আজও চরম অবহেলিত। এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির নামে হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান।

কবিপত্মী নার্গিস বংশের উত্তরসূরি বাবলু আলী খান বলেন, এ বাড়ির পুকুরঘাটের আম গাছ তলায় কবি দুপুরে শীতলপাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খানবাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে নজরুল মঞ্চ। প্রতিবছর কবির জন্মদিনে সেখানে জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন অনুষ্ঠান করে থাকে। এর বাইরে আর কিছুই এখানে হয়নি।

নজরুল গবেষক অধ্যাপক শ্যামা প্রসাদ বলেন, কবি নজরুলের নামে দৌলতপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়িটিকে জাদুঘর বানিয়ে কবি পত্মী নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক ও বাসরখাটটি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments