অনন্য অর্জনের আলোয় সাকিব

আলোকিত সকাল ডেস্ক

তাঁর একটি উইকেটের জন্য অপেক্ষা ছিল সবার। তাহলেই যে ওয়ানডেতে দ্রুততম সময়ে অন্তত পাঁচ হাজার রান ও আড়াই শ শিকারের যুগলবন্দি ক্লাবে নাম উঠে যাবে সাকিব আল হাসানের!

এইডেন মারক্রামকে বোল্ড করে সে কীর্তির আলোয় ঠিকই ভেসেছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাকের ২৩৪ ওয়ানডের রেকর্ড কাল সাকিব পেরিয়ে যান ১৯৯তম ম্যাচেই। তবে এর আগে আরেক অর্জনে উদ্ভাসিত তিনি; ম্যাচের আবহে যা আলোচনায় ছিল না সেভাবে। আগের তিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে যেমন ফিফটি করেন সাকিব, সে ধারাবাহিকতায় কালও তো ওই মাইলফলক স্পর্শ করেন। টানা চতুর্থ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ফিফটিকে কেবল সেঞ্চুরি রূপান্তরিত করতে পারলেন না—এই যা কিছুটা আক্ষেপ!

অবশ্য স্বপ্নের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অমন জয়, তাতে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ—খুব বেশি হাহাকারের সুযোগ কই তাই সাকিবের!

২০০৭ বিশ্বকাপে পোর্ট অব স্পেনে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের। বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনকে ১৯১ রানে অলআউট করায় সাকিবের বাঁহাতি স্পিনের কোনো শিকার না থাকাটা একটু অবাক করাই। সেটি পুষিয়ে দেন ব্যাটিংয়ে। তামিমের ব্যাটের বিস্ফোরণে শুরু ইনিংসে ওই ওপেনারের আগে-পরে শাহরিয়ার নাফীস ও আফতাব আহমেদ আউট হলে ৭৯ রানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখনই ক্রিজে যান সাকিব। পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ৮৬ বলে ৫৩ রানের ইস্পাতদৃঢ় ইনিংস খেলেন। তাতেই জয়টা হাতের নাগালে চলে আসে হাবিবুল বাশারের দলের। শেষ পর্যন্ত সাকিব ক্রিজে না থাকলেও পাঁচ উইকেটের রূপকথাসম এক জয় পায় বাংলাদেশ।

২০১১ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লাল-সবুজের জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় প্রথম ইনিংসেই। যেখানে বীরেন্দর শেবাগের ১৭৫ ও বিরাট কোহলির ১০০ রানে চার উইকেটে ৩৭০ রানের পাহাড়ে চড়ে বসে ভারত। ওই রান তাড়া করে জেতার সাধ্যি সে বাংলাদেশের ছিল না। ৯ উইকেটে ২৮৩ পর্যন্ত যেতে পারে তারা। তামিম ইকবালের ৭০ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক সাকিব খেলেন ৫৫ রানের ইনিংস।

২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এবারও যথারীতি সাকিবের ফিফটি। তাঁর ৬৩ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানে জয়ের পুঁজি পেয়ে যায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ১০৫ রানে জিতে টুর্নামেন্টের শুরুটা দারুণ হয় বাংলাদেশের।

সর্বশেষ তিন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ফিফটি পেরোয় সাকিবের ব্যাট। মুশফিকুর রহিমও খুব পিছিয়ে নন। ২০০৭ সালে ভারত ও ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করেন তিনি। ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে কেবল তা পারেননি; আউট হন ২৫ রান করে। কাল ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাকিবের সঙ্গে তিনিও ফিফটি করেছেন। কিন্তু সতীর্থের মতো চারে চার তো হওয়ার সুযোগ ছিল না মুশফিকের!

দলে ভূমিকা বদলে সাকিব এখন ক্রিজে যান তিন নম্বরে। কাল তামিম-সৌম্যর ৮.২ ওভারে ৬০ রানের জুটি ভাঙার পর নামলেন। শুরুর দিকে তেমন আস্থা নিয়ে ব্যাটিং করতে পারছিলেন না। ভুল টাইমিংয়ে ক্যাচ হওয়া থেকে বেঁচেও তো যান একবার। তখনই হয়তো বোঝা যায়, দিনটি সাকিবের। ঠিকই মুশফিকের সঙ্গে রেকর্ড ১৪২ রানের জুটি গড়েন। ২৬তম ওভারের শেষ বলে ক্রিস মরিসের বলে চালিয়েছিলেন; ব্যাটের কানায় লেগে তা উঠে গেলেও ফাইন লেগে কোনো ফিল্ডার ছিল না। তাতেই বাউন্ডারি। তাতেই টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে ফিফটির মাইলফলকে সাকিব।

সেঞ্চুরিটা পেলেন না কালও। ইমরান তাহিরের বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ৮৪ বলে ৭৫ রান করে। তাতেই অবশ্য ভিত গড়ে দেন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের। পরে বোলিংয়ে মারক্রামকে বোল্ড করে পৌঁছে যান ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রান ও আড়াই শ উইকেটের মাইলফলকের চূড়ায়। পরে আন্দিল ফেলুকায়োর উড়িয়ে মারা বলটি মুঠোবন্দি করেন দুর্দান্তভাবে।

নিজের সব্যসাচী কীর্তির আলোয় রাঙিয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞায়ই যেন বিশ্বকাপটা শুরু করলেন সাকিব। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নযাত্রাও শুরু হয় তাই স্বপ্নের মতোই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box