অধিনায়কদের স্বপ্ন

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আমাদের দারুণ একটা দল আছে, তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার দারুণ একটা মিশেল আছে দলে। তারা খুবই রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলছে এবং সব জায়গাতেই তারা ভালো করছে। সবশেষ আয়ারল্যান্ডে হয়ে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজেও তারা ভালো করেছে। আশা করছি ২ জুন ফাফের দলের বিপক্ষেও তারা ভালো করবে, ভালো একটা শুরু এনে দেবে। ক্রিকেটে নিজেদের দিনে যেকোনো দলকেই হারিয়ে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দলের জন্য, আমরা যদি শুরুটা ভালো করি, যদি সেটা ধরে রাখি তাহলে আমরা অনেক দূরই যেতে পারব। তবে সে জন্য শুরুটা খুব ভালো হতে হবে।

বিরাট কোহলি

বিশ্বকাপে সবাই বড় রানের কথা বলছে, দেশেও সংবাদ সম্মেলনে আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এ ব্যাপারে। আমি বলেছি বিশ্বকাপে ২৬০-২৭০ রান করাও ৩৫০-৩৬০ রান করার মতোই কঠিন হবে। কারণ এটা বিশ্বকাপ, সবাইকেই চাপের মুখে খেলতে হবে, সবাই জেতার জন্য সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করবে। আমি বলছি এই বিশ্বকাপে ২৫০ রান করেও কোনো দল ম্যাচ বাঁচাবে। এটাই হবে এই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য।

অ্যারন ফিঞ্চ

আমরা বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, এটা যেমন সত্যি তেমনি এটাও সত্যি যে নতুন একটা আসর শুরু হচ্ছে। সব কিছুই একেবারে গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। আমাদের ভাগ্য ভালো যে বিশ্বকাপজয়ী দলের ছয়জনকে এখনো আমাদের সঙ্গে পাচ্ছি। তবে এটা নতুন আরেকটি বিশ্বকাপ, একবার মাঠে নেমে খেলা শুরু করলে চাপ তখন পেয়ে বসবে। তবে আশা করছি দারুণ একটা বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে এবার।

এউইন মরগান

আমি মনে করি না কেউ কারো মাথা ছাড়িয়ে আছে এখানে। এটা ১০ দলের বিশ্বকাপ, বিশ্বের সেরা ১০টি দল খেলছে। আসরটা প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। আশা করছি খুব ভালো ক্রিকেট হবে বিশ্বকাপে। খেলতে নামার জন্য খুবই মুখিয়ে আছি। স্বাগতিক হিসেবে একটা সুবিধা তো আছেই! আমরা বেশিদিন নিজেদের বাসায় থাকতে পেরেছি, নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছি। অনেক দিন ধরেই আমরা এই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা নিয়েছি।

সরফরাজ আহমেদ

সবগুলো দলই খুব ভারসাম্যপূর্ণ, সবগুলো দলই খুব ভালো দল। সবার জন্যই শুভ কামনা, আশা করছি দর্শকরা দারুণ সব ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স বরাবরই ভালো। ১৯৯২ সালে টেস্ট সিরিজের কথা যদি ধরি, এরপর ২০০৯ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টি, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পাকিস্তানের রেকর্ড বেশ ভালো। এই বিশ্বকাপেও আমরা খুব ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।

দিমুথ করুণারত্নে

আমরা গত কয়েক বছরে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। ইংল্যান্ডে খেলারও আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। আশা করছি আমরা ভালোই করব। প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আমরা একটু আগেভাগেই ইংল্যান্ডে চলে এসেছিলাম। কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা বেশ মানিয়ে নিয়েছি। আমরা নিজেদের সেরা চেহারাতেই আছি, আশা করছি ভালো করব।

কেন উইলিয়ামসন

গত বিশ্বকাপে যারা আমাদের দলে ছিল, তাদের অনেকেই আছে। তাদের অভিজ্ঞতাটা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা। তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই, চার বছরের পার্থক্যে বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড় দলে জায়গা করে নিয়েছে। একটা ব্যাপার আমার কাছে মনে হয়েছে যে র‌্যাংকিং, ফেভারিট, আন্ডারডগ—এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে; তবে আমি বলতে চাই সবগুলো দলই অনেক ভারসাম্যপূর্ণ আর ওই নির্দিষ্ট দিনটায় যেকোনো কিছুই হতে পারে।

ফাফ দু প্লেসিস

গত কয়েক বছরে দেখবেন খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট হচ্ছে, ঘরে এবং বাইরে। এমন নয় যে শুধু ঘরের মাঠেই একটা দল ভালো খেলছে। তবে বিশ্বকাপের মতো একটা টুর্নামেন্ট যেটা চার বছরে একবার আসে সেটায় ভালো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরাও অপেক্ষায় আছি মাঠে নেমে পড়ার। আর মাশরাফির ইচ্ছাটা পূরণ হতে দেব না।

গুলবদিন নাইব

এইখানে শীর্ষ সব দলের সঙ্গে থাকতে পেরে, শীর্ষ সব ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা খুবই অধীরভাবে অপেক্ষা করছি মাঠে নামার, নিজেদের সেরাটা দেওয়ার আর আফগানিস্তানকে প্রতিনিধিত্ব করার। আশা করি আমরা ভালোভাবেই সেটা করতে পারব আর নিজেদের সেরা খেলাটা খেলব।

জেসন হোল্ডার

খুবই রোমাঞ্চকর একটা বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। আগে বিশ্বকাপে যেমন হতো যে একটা দল চার-পাঁচটা ম্যাচ খেলত। এবার আরো কয়েকটি ম্যাচ বেশি খেলতে হবে। এখন ফরম্যাটটা বেশ রোমাঞ্চকর হয়েছে। বিশ্বকাপে এখন সবার সঙ্গে সবার খেলা, তাই শেষ ম্যাচে যে দলটা ট্রফি হাতে উদ্‌যাপন করবে তারা জানবে যে কতটা কষ্টকর ছিল পুরো যাত্রাটা। লম্বা টুর্নামেন্ট, আমাদের প্রথম ভাগটা ভালোভাবে শেষ করতে হবে, এরপর দেখতে হবে সামনে কী আছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments