অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ভারতে অবস্থানরত চিত্রনায়িকা অঞ্জু ঘোষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তিনি আসলে ভারতীয় কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসলে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেয়া নিয়েই তিনি বিতর্কে জড়ান। এই নিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলছে এখন আলোচনা- সমালোচনা।

তবে অঞ্জু ঘোষ ও বিজেপির দাবি তিনি ভারতীয় নাগরিক। গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। সেই সাথে তার নাগরিকত্বের কাগজপত্রেরও কপি পেশ করেন। কিন্তু সেসব কাগজপত্রের একাধিক স্থানে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি জানায় ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।

সংবাদ সম্মেলনে জন্ম সনদ, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, আধার কার্ড এবং পাসপোর্টের কপি পেশ করে অঞ্জু দাবি করেন, তিনি ভারতীয়। অঞ্জুর দাবি ১৯৬৬ সালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার জন্ম। এর পক্ষে বিজেপি পেশ করেছে ২০০৩ সালে কলকাতা পৌরসভার থেকে প্রকাশিত তার জন্ম সনদ। যদিও অনলাইনে অঞ্জুর জন্ম সনদের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের গরমিল দেখা গেছে। একই নামে দুটি রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া গেছে।

বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, ১৯৬৬ সালে যার জন্ম, তার জন্ম সনদ ২০০৩ সালে দেয়া হলো কেন? এছাড়া বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে অঞ্জু বাংলাদেশকেই তার ‘মাতৃভূমি’ বলে দাবি করেছিলেন। এমনকি, একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম কিন্তু চট্টগ্রামে নয়, ফরিদপুরে। তবে বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে।’

অঞ্জুর যে পাসপোর্টের কপি দেখানো হয়েছে, সেটির মেয়াদ শুরু ২০১৮ সালে। প্রশ্ন উঠেছে- যে অভিনেত্রী দীর্ঘদিন বাংলাদেশ এবং ভারতে অভিনয় করেছেন, তার পাসপোর্ট ২০১৮ সালের হয় কী করে? এ বিষয়ে বিজেপির দাবি, ধারাবাহিকতায় এটি তার শেষ পাসপোর্ট। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে প্রথম পাসপোর্টের তথ্য ও কপি কোথায়? যদি তিনি নাগরিকত্ব বদলে থাকেন, তাহলে কলকাতার জন্ম সনদ আসে কোথা থেকে?

বিজেপি তার যে ভোটার কার্ডের কপি পেশ করেছে, সেটি ইস্যুর তারিখ ২০০২ সাল। অঞ্জু যদি ভারতেরই নাগরিক হবেন, তাহলে ভোটার কার্ড পেতে এত সময় লাগল কেন? তার যে প্যান কার্ড দেয়া হয়েছে, সেখানে আবার জন্ম সাল ১৯৬৭। প্রশ্ন উঠছে, একেক জায়গায় তার একেক রকম জন্ম তারিখ কেন?

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box